ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিস্তৃত করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে কোইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুততার সঙ্গে দিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বৃহস্পতিবার সিউলে ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহের নেতৃত্বে কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে মিলে ঢাকার ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোরিয়ার সম্মতি প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ঢাকার এমআরটি লাইন-৫ এর দক্ষিণাংশে এডিবির সঙ্গে মিলে অর্থায়ন করার কথা দক্ষিণ কোরিয়ার।
সেখানে ১০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা চূড়ান্ত করেনি দেশটি। অর্থায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার কথা বলে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
মেট্রোরেলে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত দ্রততার সঙ্গে পাওয়ার অনুরোধের পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিস্তৃত করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহের সঙ্গে বৈঠকে অনুদান সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মতো উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোইকার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
সেমল প্লাস অ্যান্ড পভার্টি প্রোগ্রামের আওতায় ৩৯ মিলিয়ন সহায়তা দেওয়ায় কোইকাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে পানীয় নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যে আরও সহযোগিতা চান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড নেগোসিয়েশন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাইয়েজিন কৌনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পরবর্তী ধাপে বিস্তৃত, সমন্বিত এবং রূপান্তরশীল কর্মসূচিতে কোইকা-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নীত করতে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন কোইকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও কোরিয়ার উন্নয়ন-সহযোগিতা বিষয়ক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমানোর আহ্বান
সিউল সফরে থাকা প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন এদিন কোরীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড নেগোসিয়েশন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাইয়েজিন কৌনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উপমন্ত্রী কৌনের সঙ্গে বৈঠকে দুদেশের মধ্যে বর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়াতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমাতে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশি কৃষি, মৎস্য এবং খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা অনুরোধও জানান তিনি।
রিজিওনাল কমপ্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসেপ) বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোরিয়ার সমর্থন চান প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে, কোরিয়াকে আরও বেশি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
উপমন্ত্রী কৌনের সঙ্গে বৈঠকে কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতাকে আরও ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং শিল্পের উন্নয়নে কোরিয়ার ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের অগাস্টে বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান প্রতিমন্ত্রী।
কোরীয় এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের আরও গভীর অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি প্রবেশদ্বার হিসাবে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দুদেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ করে কোরীয় প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরের সময়ে এ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশে কোরিয়ার বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে যৌথ বিনিয়োগ উন্নয়ন এবং সরকারের সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) সহায়তার বিষয়ে উৎসাহ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে উপমন্ত্রী কৌন। সেপা নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে কোরিয়ার আগ্রহ কথা বলেছেন তিনি।
ভাঙচুর, দখল: ভাবমূর্তি ও জনআস্থার সংকট
৪৭-এর পাকিস্তানপ্রত্যাখ্যান ও ৭১-এর বাংলাদেশবিরোধিতা: জামায়াতের রাজনৈতিক স্ববিরোধ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: শুধু সুদের হার নয়, প্রয়োজন সমন্বিত নীতি