বলিভিয়ার বিপক্ষে দলের খেলা ভালো লেগেছে আর্জেন্টিনা কোচের।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বিশ্বকাপের পর প্রথমবার মাঠে নেমে যে ফুটবল আর্জেন্টিনা খেলেছে তাতে মুগ্ধ লিওনেল স্কালোনি। বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট অভিজ্ঞ এই কোচ। নতুন পথচলার এমন শুরুতে খুশি তিনি।
কর্দোবায় বৃহস্পতিবার প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ হারের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ।
আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে স্কালোনির ভবিষ্যৎ এখনও অজানা। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে শিরোপা এনে দেওয়া এই কোচ ভালো করেই জানেন, গত ফাইনাল দিয়ে শেষ হয়েছে একটি চক্র। এবারের আন্তর্জাতিক বিরতি দিয়ে শুরু হয়েছে আরেকটি চক্র।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বললেন, চার বছর আগে নতুন চক্রের শুরুতে যে কথা বলেছিলেন তিনি, এবারও সেটিই বলতে চান।
“আমাদের কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেতে হবে এবং এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। আমি তাদের একই কথা বলেছিলাম। হয়তো যে ফল আমরা চেয়েছিলাম সেটা পাইনি, কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যারা এখানে থাকতে চায় না, তারা সেটা প্রকাশ্যে বলতে পারে, কোনো সমস্যা নেই।
“বল জালে যাক আর না যাক, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাব। আপনি ঝুঁকি নিয়ে ভাবতে পারবেন না। অন্য দিকে আপনি ভাবতে পারেন, (রানার্সআপ হওয়ার) এই যাত্রা কতটা অসাধারণ ছিল। এই ছেলেদের খেলতে দেখা, ওদের মাঠে যেতে দেখা কতটা অসাধারণ।”
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এরই মধ্যে অবসর নিয়েছেন লিওনেল মেসি। সামনের দিনগুলোতে তাকে ছাড়াই চলতে হবে জাতীয় দলকে। মেসির যে কোনো বিকল্প নেই সেটা ভালো করেই জানেন স্কালোনি। তবে মহাতারকাকে ছাড়াই একই ঘরানার ফুটবল খেলে যাওয়ার ব্যাপারে প্রত্যয়ী কোচ।
“আমরা একই কৌশলে খেলার পথ খুঁজে নেব, টানা পাস দেওয়া, বলের দখল নিজেদের কাছে রাখা… এই ব্যাপারটা দলে যারা আছে তাদের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে চাই। আসল চ্যালেঞ্জ হলো, এই একই ধারায় খেলা চালিয়ে যাওয়া এবং যারা নতুন আসবে তারা যেন বুঝতে পারে যে, আমাদের খেলার ধরন এমন। মূল ভিত্তিটা সবসময় একরকম, তা হলো বল নিয়ন্ত্রণে রাখা। চ্যালেঞ্জটা হলো ঠিক একই উপায়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া।”
অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে দল সাজিয়েছিলেন স্কালোনি। দল যেমন খেলেছে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতেন না আর্জেন্টিনা কোচ।
“এই জার্সি পরে যেভাবে খেলা উচিত, ছেলেরা সেভাবেই খেলেছে। সবাই নিজের অবদানটুকু রাখতে চেয়েছে। আমি খুশি, কারণ ম্যাচের ফলাফলের বাইরেও এটি স্পষ্ট ছিল যে, দলের একটি নিজস্ব পরিচয় আছে এবং মাঠে যারাই খেলুক না কেন, আমরা সেটা ধরে রাখব। দল একটি পরিপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছে, যারা যেভাবে খেলেছে আমার ভালো লেগেছে। আমার মতে, ম্যাচ খেলা এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
“সবার পারফরম্যান্সই আমার ভালো লেগেছে। কারও নাম আলাদা করে বলতে চাই না। বিশেষ করে অধিকতর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে, তারা ম্যাচ যেভাবে খেলেছে। তারা আসতে পারত এবং আরাম করতে পারত, কিন্তু এটা এভাবে হয় না। এটা ভালো ব্যাপার যে, তরুণ খেলোয়াড়রা এমনটা দেখছে। আমি যা বলতে পারতাম তার চেয়ে ভালো উদাহরণ এটা।”
এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছে রোমান ভেইগা, এসেকিয়েল ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন গোমেস, সান্তিয়াগো সিমন ও লিওনেল ফ্লোরেসের। স্কালোনির কোচিংয়ে সব মিলিয়ে ৭০ জনের অভিষেক হলো আর্জেন্টিনার হয়ে।
“এতো এতো বিকল্প থাকা কোনো সমস্যা নয়, এটা বরং গর্বের ব্যাপার। অনেক বড় একটা সংখ্যা থেকে বেছে নিতে পারি। সমস্যা হবে যখন চূড়ান্ত দল করব। তবে এই পথটাই ভালো।
“আমি মনে করি, যে কোনো কোচের জন্য খেলোয়াড়দের অভিষেকের সুযোগ দেওয়া রোমাঞ্চকর, জাতীয় দলের জন্য সেটা আরও এশি। ছেলেরা যখন মাঠে নামে তখন সেটা আপনি ওদের চোখে দেখবেন। আপনি তখন অনুভব করবেন এই জার্সি পরার জন্য ওরা কত কিছু করেছে। আমাদের জন্য ওদের সুযোগ দিতে পারা সম্মানের এবং এটাই সেরা সময়।”
ভাঙচুর, দখল: ভাবমূর্তি ও জনআস্থার সংকট
৪৭-এর পাকিস্তানপ্রত্যাখ্যান ও ৭১-এর বাংলাদেশবিরোধিতা: জামায়াতের রাজনৈতিক স্ববিরোধ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: শুধু সুদের হার নয়, প্রয়োজন সমন্বিত নীতি