লম্বা অপেক্ষার পর এশিয়ান কাপে মাঠে ফিরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠে ফিরেও অপেক্ষার অবসান হলো না, বরং শেষ হলো সোনার স্বপ্ন। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে ব্যাটিং ধসের পর বোলিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাসের কথায় উঠে এসেছে সেই প্রস্তুতিহীনতার ছবিই। উইকেট সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই খেলতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
জাপানের নাগোয়ায় সেমিফাইনালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কোনো ব্যাটার বড় অবদান রাখতে পারেননি। জবাবে শুরুতে কয়েকটি উইকেট তুলে পাকিস্তানকে চাপে ফেললেও মাঝের ওভারে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেননি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
লিটনের মতে, এতদিন মাঠের বাইরে থাকার পর সরাসরি এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামা সহজ ছিল না। শুধু ম্যাচ না খেলাই নয়, শেষ কয়েক দিনে উইকেটে অনুশীলনের সুযোগও পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি প্রতিপক্ষের ম্যাচ দেখেও উইকেটের আচরণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ হয়নি।
‘স্বাভাবিক, আপনি যখন কাভার আপ থাকবেন অনেকদিন তারপর যখন উইকেটটা খেলা হবে ২০ ওভার আপনি একটা আইডিয়া পাবেন। আমাদের হাতে তো কোনো আইডিয়া ছিল না বিকজ এখানে আমরা লাস্ট কয়দিন ধরে কোনো গেমও দেখি নাই এবং উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগও নেই। সো আইডিয়া ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি ফার্স্ট কয়েকটা ওভার। এরপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা আইডিয়া পেয়েছে’ ম্যাচ শেষে বলেছেন লিটন।
লিটনের কথায় সত্যতা রয়েছে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ৭ রান করে, অধিনায়ক লিটন ২ রান করে এবং পারভেজ হোসেন ১ রান করে ফিরে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে দল। সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি।
এরপর তাওদিদ হৃদয়ই মূলত বাংলাদেশের ইনিংসকে টেনে তোলেন। মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে বের করার চেষ্টা করেন তিনি। চারটি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে ৪৫ রান করে হৃদয় যখন ফিরেছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর একশ পেরিয়েছে। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের দুটি চারে ১১১ রানে থামে ইনিংস।
এই পুঁজি নিয়ে অবশ্য ম্যাচে লড়াইয়ের আশা তৈরি হয়েছিল। ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন চাপে, তখনও ম্যাচ বাংলাদেশের নাগালের বাইরে ছিল না। কিন্তু সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি বোলাররা। আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে মোস্তাফিজের দশম ওভারে।
লিটনও ম্যাচের এই জায়গাটিকেই বড় করে দেখছেন। তার মতে, মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ আরও ভালো বোলিং করতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত। বিশেষ করে ওভার বাউন্ডারি কম দিতে পারলে জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের।
লিটনের ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম তাহলে চান্স বেশি ছিল।’
তবে মোস্তাফিজকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থেকেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দুই ওভারে ৪১ রান দেওয়া বাঁহাতি পেসারকে ওই পরিস্থিতিতে নিজের কাছে সেরা বিকল্পই মনে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘অনেকজনই ছিল। আজকে মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পাইলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এতদিন তো করে আসছে। আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট আপনি করাবেন।’
ব্যাটিংয়ে হৃদয়ের পারফরম্যান্সকেও আলাদা করে কৃতিত্ব দিয়েছেন লিটন, ‘ক্রেডিট গোজ টু হৃদয় যে ও আমাদের টিমকে কামব্যাক করিয়েছে ওই জায়গা থেকে। মোসাদ্দেক এবং হৃদয়ের পার্টনারশিপটা খুবই ভালো ছিল।’
তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। দেশ ছাড়ার আগে ফাইনাল খেলার লক্ষ্য জানিয়েছিলেন লিটনরা। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার আক্ষেপও আছে তার, ‘স্বাভাবিক, যখন দেশ ছাড়ছি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। সো ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।’
তবে নিজে না পারলেও পরবর্তীতে কেউ কাজটা করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন অধিনায়কের, ‘আমাদের অবশ্যই গোল্ড পেতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। বাট চেষ্টা তো করেই যাব। আবার ভবিষ্যতে কোনো না কোনো টিম আসবে তারাও চেষ্টা করবে। বাট যখন ল্যাক অফ জিনিস থেকে যায় তখন অনেক কিছু কন্ট্রোলের বাইরে চলে যায়। তো আমরা অবভিয়াসলি চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতে যারা আসবে এই জিনিসটা নিয়ে চেষ্টা করবে।’