একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালের উপস্থিতি ছিল অনেকটাই অনিয়মিত। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিষেকের পর বদলে যায় সেই চিত্র। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে টানা প্রতিটি আসরে খেলেছে পর্তুগাল। এই দীর্ঘ পথচলায় দলের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠেছেন রোনালদো। জাতীয় দলের জার্সিতে একের পর এক রেকর্ড ও অর্জন তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।
সেই রোনালদোই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিলেন বেশ স্পষ্ট বার্তা। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার এক সপ্তাহ আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, পর্তুগাল তাকে আর প্রয়োজন মনে না করলে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন।
এরই মধ্যে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন রোনালদো। তবে ঠিক কী কারণে তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি এখনো স্পষ্ট করেননি পর্তুগাল অধিনায়ক। ফলে তার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। এর মধ্যেই সামনে এসেছে জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সেই বক্তব্য।
রোনালদো সেদিন বলেছিলেন, “যেদিন তারা আমাকে জাতীয় দলের জন্য চাইবে না, সেদিন আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাদের সঙ্গে সেই বিষয়ে কথা বলব।”
জাতীয় দলে থেকে যদি তিনি কোনো অবদান রাখতে না পারেন, গোল করতে না পারেন, সতীর্থদের গোল করাতে না পারেন কিংবা তার উপস্থিতি দলের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন বলেও জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
রোনালদোর ভাষায়, “যদি আমার মনে হয় আমি এখানে কিছুই করছি না, অবদান রাখছি না, গোল করছি না, গোল তৈরি করছি না, খারাপ পরিবেশ তৈরি করছি, অথবা তারা আমাকে এখানে চায় না, তাহলে আমি আমার ব্যাগ নিয়ে চলে যাব।”
নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে রোনালদো বলেছিলেন, “তারা যদি আমাকে চায়, তাহলে আমি পর্তুগাল জাতীয় দলের জন্য থাকব। তারা যদি আমাকে না চায়, তাহলে সেটাই কারণ।”
জাতীয় দলে এখনো নিজের অবদান রাখার সামর্থ্য রয়েছে বলেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। নিজের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, “আপনারা সংখ্যাগুলো জানেন, হিসাব করতে জানেন। আপনারা পরিষ্কারভাবে দেখতে পারেন যে আমি এখনও উচ্চ পর্যায়ে আছি এবং আমি কী করি, কী পার্থক্য তৈরি করি।”
তবে জাতীয় দলের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে গেলেও সেটিকে নেতিবাচকভাবে নেবেন না বলেও জানিয়েছিলেন রোনালদো। তার ভাষায়, “যেদিন তারা আমাকে আর চাইবে না, সেদিন কোনো সমস্যা হবে না।”
একই সঙ্গে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন ও জাতীয় দলের প্রতি নিজের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলা বন্ধ হয়ে গেলেও ফেডারেশন ও দলের প্রতি সমর্থক হিসেবে পাশে থাকার এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার কথাও বলেন রোনালদো।
রোনালদোর সেই বক্তব্যে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট ছিল। জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নিতে চান না তিনি। বরং দলের প্রয়োজন, নিজের পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলের জন্য তার অবদান, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নিজের অবস্থান নির্ধারণের কথা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
ক্যাম্প ছাড়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর তাই এক সপ্তাহ আগের সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পর্তুগাল ও ডেনমার্কের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তার হঠাৎ ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রোনালদো নিজে এখনো তার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা হিসেবে নিশ্চিত করেননি।