বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানিমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “বিএনপির সাথে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা তো আসলে আছে; এটা রাজনীতি। আচ্ছা আমি এটা বলছি না—এই সরকারের সময়ে, এই সরকারের সাথে কানেক্টেড বা এই সরকারের দলের নাম নিয়ে কেউ এটা করছেন না; আমি কিন্তু এটা বলছি না।
“কিন্তু ব্র্যান্ডিংটা, এই যে আমরা ন্যারেটিভের আলাপ করছি, এই চেষ্টা ইন্টেরিমের সময় থেকেই আসলে আছে। এই চেষ্টাটা চলছে এবং এটা রাজনীতি।”
সরকারের কাজের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন উপদেষ্টা জাহেদ।
এনসিপির চাঁদাবাজবিরোধী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি এনসিপির যে কর্মসূচির কথা বললেন, আমার কাছে এটা একটা স্যাটায়ার মনে হয়েছে, তারা করতেই পারেন। আমরা যেকোনো ভায়োলেন্ট কিছুর পরিবর্তে এই ধরনের যেসব কর্মসূচি তিনি করছেন, সেটাকে আমরা ওয়েলকাম করি।
“তিনি যদি মনে করেন, এটার মাধ্যমে তিনি জনগণের সাথে কানেক্ট করতে পারবেন, তারা সেটা চেষ্টা করুক, তাদের জায়গা থেকে তারা করবেন।”
সাংবাদিক জানতে চান, ডিএমপির চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা শীর্ষে আছেন। সরকার বিষয়টিকে কতটা আমলে নিচ্ছে?
জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আপনি যেটা বলছেন, সেটা হলো যে (চাঁদাবাজির) অভিযোগগুলো আছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সরকারের কাজ কিন্তু শুধু ন্যারেটিভ তৈরি করবে, তা না।
“সুতরাং আপনি যেটা বলেছেন আমি ওই রিপোর্টে দেখিনি, আর সরকার নিশ্চয়ই এটুকু আমরা নিশ্চিত করতে পারি আপনাকে যে, সরকার কারা চাঁদাবাজি করছে বা কতজন করছে, তাদের মধ্যে তারা কার সাথে কানেক্টেড আছে, এই ডেটা সরকারের কাছে নিশ্চয়ই আছে। সে ধরনের প্রয়োজনে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই সরকার নেবে।”
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেইসবুক পোস্টে ‘অপতথ্য’ দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
গত শনিবার রাতে ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় নিজের স্টুডিও হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সালমান মুক্তাদির ঘটনার জন্য ‘বিএনপির চাঁদাবাজদের’ দায়ী করেন। তবে পরে তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।
উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “উনি (জামায়াত আমির) ইনস্ট্যান্টলি সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এখনো স্ট্যাটাসটা আছে। যেখানে তিনি চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করেই স্ট্যাটাস দিয়ে সরকারকে ব্লেম করছেন। সরকারের দলকে ব্লেম করছেন।
“…সালমান মুক্তাদির নিজে স্বীকার করলেন যে এ ব্যাপারটা আসলে এইরকম না। এবং শুধুমাত্র তার স্থাপনা না, আরও স্থাপনাও এখানে ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতার ফেইসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটা এখনো রয়ে গেছে। শুধু তিনি নন, এনসিপির অনেক সিগনিফিকেন্ট নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপির প্রধান এবং এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিজনক ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি।”
অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু আইন নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছারও প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিষয়টি মোকাবিলায় সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।”
বিভিন্ন সময়ে সোশাল মিডিয়ায় অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাবও অনেক বড় হতে পারে।”
বিশ্বজুড়েই অপতথ্যকে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে মন্তব্য করে জাহের উর রহমান বলেন, “যাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক রিচ, প্রভাব ও অনুসারী রয়েছে; তাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
“সালমান মুক্তাদিরের মতো যাদের ব্যাপক রিচ, ভয়েস ও ট্র্যাকশন রয়েছে, তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করি।”
অপতথ্য মোকাবিলায় জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন জাহেদ উর রহমান।
এ প্রসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কাজ চলছে। জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি অপতথ্য মোকাবিলায় বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
ডলারের অঙ্ক বাড়ে, শ্রমিকের হিসাব মেলে না
মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না
ডিজিটাল কলোনিয়ালিজম: আত্মপরিচয়ের সংকট ও লিঙ্গভিত্তিক সংঘাত
রাড্ডাকাণ্ড: আট মাস না পেরোতেই বড় প্রশ্নের মুখে বিএনপি