ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি মব করে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতালির ভেনিসে যা ঘটেছে, তা সত্যিই একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।’
শামা ওবায়েদ জানান, ঘটনার পর মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাঁধনের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতসহ ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের কনস্যুলেট সেখানে শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। রাষ্ট্রদূতসহ ইতালিতে আমাদের দূতাবাসও পূর্ণ সহায়তা করেছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাঁধন যতদিন ইতালিতে থাকবেন, ততদিন বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বা ভ্রমণরত বাংলাদেশিদের ওই দেশের আইন মেনে চলার দায়িত্ব রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশিরা যখন বিদেশে বসবাস করেন, তখন তারা যে দেশে অবস্থান করছেন সেখানকার আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলবেন, এটাই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত।’
বাংলাদেশিরা শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা পেশাজীবী যে হিসেবেই বিদেশে যান না কেন, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, সরকার মব করে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, যেকোনো ধরনের মব বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থান শুধু ভেনিসের জন্যই নয়, বিশ্বের যেকোনো স্থানে, এমনকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন।
শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গণপিটুনি ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মানবাধিকার ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে পৃথক এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
গত ১৭ বছরের সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের সুপারিশ সরকার গ্রহণ করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এসব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তিনি বলেন, ‘যদি এটি বিবেচনা করার মতো উপযুক্ত মনে হয়, তবে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষাকারী যেকোনো পদক্ষেপ বা আইন সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে।’