মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের পদত্যাগের খবর অস্বীকার করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, সেনাবাহিনী বিভাগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের মতে, হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রয়টার্সের সূত্রের দাবি, ড্রিসকল ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সেনাবাহিনীর রূপান্তর ও প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এসব উদ্যোগে হেগসেথ বাধা দিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কাজ করা জেনারেলদের বরখাস্ত করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
হেগসেথের অধীনে পেন্টাগন থেকে বিদায় নেওয়া সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্রিসকল। এর আগে এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করা হয়। জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহু পদ ছেড়ে দেন। নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও এপ্রিলে পদত্যাগ করেন।
ড্রিসকল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক পদে দায়িত্ব নেন। দায়িত্বে থাকাকালে কম খরচে অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে আরও দ্রুত ও নমনীয় করার উদ্যোগ নেন। বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার দায়িত্বও ট্রাম্প তাঁকে দিয়েছিলেন। ইরাক যুদ্ধে মোতায়েন থাকা ড্রিসকল ২০২০ সালে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হননি। পরে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের পুনর্নির্বাচন প্রচারে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
ড্রিসকল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আইন স্কুলের সাবেক সহপাঠী।
সূত্র: বিবিসি