বক্স অফিসের বহু প্রজন্মের তারকার সঙ্গে টক্কর দেওয়া এক অভিনেতা অমিতাভ ব্চ্চন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
কর্মজীবনে তিনি এখনও এতটাই সক্রিয় যে অনায়াসে ২৫ বছরের তরুণকে হার মানাতে পারেন। তিনি বলিউডের শাহেনশাহ, অমিতাভ বচ্চন।
টানা পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারেও ভাটা পড়েনি তার জনপ্রিয়তায়, যে খ্যাতি বহমান তুমুল স্রোতে। বহু ভাষা, বহু বর্ণে-ধর্মে বিভাজিত ভারতে অমিতাভজি একজনই। বক্স অফিসের বহু প্রজন্মের তারকার সঙ্গে টক্কর দেওয়া এক অভিনেতা।
অভিনয়ের জাদু-দক্ষতায়-ভরাট কণ্ঠের একজন অমিতাভই ভারতের চলচ্চিত্রকে শাসন করছেন দশকের পর দশক।
তার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী রোববার। আপাতত ব্যস্ত কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র শুটিংয়ে। দিনকয়েক আগে হাঁটুর চোট সারিয়ে উঠেছেন। নিয়মিত ব্লগ লেখেন। ব্যক্তিগত কথাও ভাগ করে নেন সেখানে। তার কর্মজীবনও যেন সিনেমার মতো। নিজের জায়গা তৈরি করা নেহাত মসৃণ ছিল না তার জন্য। তার সম্পর্কে রয়েছে নানা মজার ও আকর্ষণীয় তথ্যও।
তেমনই এক তথ্য উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে। তা হল একটি দুর্ঘটনায় থমকে যেতে বসেছিল অমিতাভের জীবন। ঘটনাটি ঘটে ‘কুলি’ সিনেমার সেটে।
‘কুলি’ সিনেমার সেটে অমিতাভের চরিত্রের মৃত্যু হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু ওই সিনেমার শুটিং সেটেই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পৌঁছে যান মৃত্যুর মুখে।
তখন পরিচালক মনমোহন দেশাই সিদ্ধান্ত নেন ক্লাইম্যাক্স বদলের। চিত্রনাট্যে বদল করে তার চরিত্র ইকবালকে জীবিত রাখা হয় ওই সিনেমায়।
‘কুলি’ সিনেমার শুটিং চলছিল বেঙ্গালুরুতে। ১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই ছিল সেদিন। সহ-অভিনেতা পুনীত ইসারের সঙ্গে একটি মারপিটের দৃশ্য করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন অমিতাভ।
দৃশ্যটি ছিল, লাফ দিয়ে একটি টেবিলের ওপর পড়তে হবে অমিতাভকে। সময় হিসেব করে লাফ দিতে হবে অভিনেতাকে। কিন্তু সময়ের হিসেবে গণ্ডগোল হয়ে যায়। অমিতাভ আঘাত পান টেবিলের কোনায়। পেটে আঘাত লাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্ত্র।
শুরুতে ঘটনাটি শুটিংয়ের সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও ক্ষাণিক পরেই বোঝা যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ।
তাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা দেরি না করে অভিনেতা ঢুকিয়ে নেন অস্ত্রপচারের কক্ষে।
এ খবর প্রকাশ পেতে ভক্তদের উদ্বেগ আর প্রার্থনা শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পর সুস্থ হতে অমিতাভের বেশ কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটিকে নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন অমিতাভ নিজেও।
১৯৮৩ সালে মুক্তির পর ‘কুলি’ হয়ে ওঠে বছরের অন্যতম বড় ব্যবসাসফল সিনেমা।
‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিকুয়েলে দেখা যাবে অমিতাভকে
জন্ম: ১৯৪২ সালে ১১ অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে ১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর জন্ম অমিতাভ বচ্চনের। বাবা প্রখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা শিখ-পাঞ্জাবি সমাজকর্মী তেজি বচ্চন।
প্রথম নাম টেকেনি: জন্মের পর প্রথম নাম দেওয়া হয়েছিল ইনকিলাব, আর পদবি শ্রীবাস্তব। কিন্তু কোনোটিই টেকেনি, ইনকিলাব শ্রীবাস্তব হয়ে যান অমিতাভ বচ্চন।
কর্ম শুরু অন্য পেশায়: ৫০০ রুপি বেতনে কলকাতায় একটি জাহাজ কোম্পানিতে চাকরির মাধ্যমে পেশাজীবন শুরু অমিতাভের। অভিনেতা হওয়ার নেশায় পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে।
প্রথম সিনেমা: ‘সাত হিন্দুস্তানি’ দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা। ওই সিনেমায় প্রথম উপার্জন এক হাজার রুপি।
ব্যর্থতা: ভরাট কণ্ঠের জন্য সুপরিচিত হলেও ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র অডিশন থেকে দু-দুবার বাদ পড়েন অমিতাভ। বলিউডের প্রথম ‘অ্যাংরি হিরো’ বলা হয় অমিতাভ বচ্চনকে।
গুরুত্বপূর্ণ সিনেমাগুলো: আনন্দ, গুড্ডি, অভিমান, জঙ্জির, সওদাগর, দিওয়ার, শোলে, দো আনজানে, অমর আকবর অ্যান্টনি, ডন, সুহাগ, লাওয়ারিশ, শাহেনশাহ, সিলসিলা, ম্যায় আজাদ হু, অগ্নিপথ, হাম, বুম, বাগবান, ব্ল্যাক, সরকার, নিঃশব্দ, কুলি, শক্তি, দোস্তানা, পা, অরক্ষণ, পিঙ্ক, সত্যাগ্রহ, রিস্তা, মোহাব্বাতে, ভাগবান, কাভি খুশি কাভি গম, ভূতনাথ, ভুতনাথ রিটার্ন, গুলাবো সিতাবো, পিকু।
সম্মাননা: কাজের স্বীকৃতিতে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার আইফা, স্টারডাস্ট, জি সিনে পুরস্কার, পিপলস চয়েজসজ অসংখ্য পুরস্কার ঘরে তুলেছেন অমিতাভ। এছাড়া ২০০৭ সালে ফ্রান্সের তরফ থেকে পান ‘নাইট অব দ্য লন্ডন’।
পারিবারিক জীবন: আভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ি তার জীবনসঙ্গী। দুই সন্তান শ্বেতা বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। পেশায় অভিনেতা অভিষেকে স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং তাদের একমাত্র সন্তান আরাধ্যা বচ্চন।
রাজনৈতিক জীবন: রাজনীতিতেও জড়িয়েছিলেন অমিতাভভ। ১৯৮৪ সালে পারিবারিক বন্ধু প্রয়াত রাজীব গান্ধীর সমর্থনে লোকসভা আসনের জন্য উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ এন বহুগুণার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ান অমিতাভ এবং বহু ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তবে তিনি পদত্যাগ করেন তিন বছরের মাথায়।
কৌন বনেগা ক্রোড়পতি: অমিতাভের ক্যারিয়ারের কিছুটা মন্দা দেখা দেয় নব্বইয়ের দশকে। অমিতাভ নেন গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত, যার সুবাতাস বইছে আজ অবধি। অমিতাভ মনোযোগী হন ছোট পর্দায়। সঞ্চালকের ভূমিকায় আসেন ভারতের জনপ্রিয় গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র।
এখনকার ব্যস্ততা: ১৯৪টির বেশি সিনেমায় কাজ করা অভিতাভের জয়রথ ছুটছেই। তাকে আগামীতে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিকুয়েলে দেখা যাবে।
তাজমিন হত্যা: ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ করে হত্যাকারীর বিচার চান
‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মকথা’ লিখতে চেয়েছিলাম