দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।
ছবি: অস্ট্রেলিয়ান মেন'স ক্রিকেট টিম ফেইসবুক
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ব্যাট হাতে ভালো শুরু পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেই। কিন্তু কাউকে পঞ্চাশ ছুঁতে দিলেন না অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। ইনিংসে চারটি ক্যাচ নেওয়ার পথে স্টিভেন স্মিথ গড়লেন একটি রেকর্ড। সম্মিলিত চেষ্টায় প্রোটিয়াদের তিনশর আগে গুটিয়ে লিড নিল অস্ট্রেলিয়া।
ডারবান টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে ১৩৯ রানে এগিয়ে আছে প্যাট কামিন্সের দল, হাতে উইকেট ১০টি।
প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করা সফরকারীরা রোববারের খেলা শেষ করে বিনা উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৪ রানে থামিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় তারা।
টেস্টে স্মিথের ক্যাচ সংখ্যা এখন ২২৩টি। এদিন জো রুটকে (২২০) ছাড়িয়ে ফিল্ডারদের (কিপার ব্যতিত) মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড গড়েন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্রিকেটার।
নতুন দিনের শুরুর কঠিন সময়টা ভালোভাবেই কাটিয়ে দেন এইডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহ্যাম। দুইজনই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু পানি পানের বিরতির আগে ভাঙে তাদের ৮৪ রানের জুটি। মিচেল স্টার্কের বলে প্রথম স্লিপে ধরা পড়েন মার্করাম (৭ চারে ৩৭)।
টেম্বা বাভুমাকে টিকতে দেননি অভিজ্ঞ অফ স্পিনার ন্যাথান লায়ন। যদিও এই উইকেটে বড় অবদান ছিল স্মিথের। বাভুমা রিভার্স সুইপ করবেন বুঝতে পেরে স্লিপ থেকে আগেই কিছুটা ডানদিকে সরে যান স্মিথ। পরে সেখানেই তার হাতে ধরা পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক।
লাঞ্চের আগে বেডিংহ্যামকেও হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় স্লিপ থেকে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে চোখধাঁধানো ক্যাচ নেন স্মিথ। ৯ চারে ৪৯ রান করে ফেরেন বেডিংহ্যাম। আর স্মিথ ক্যাচে ছাড়িয়ে যান রুটকে।
ট্রিস্টান স্টাবস, ভিয়ান মুল্ডার বিদায় নেন থিতু হয়ে। নিজের পরপর দুই ওভারে এই দুইজনকে ফেরান প্যাট কামিন্স। ৩ চারে ৩২ রান করেন স্টাবস, একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৩০ রান করেন মুল্ডার। তাদের জুটিতে আসে ৫৬ রান।
লায়নকে রিভার্স সুইপ করে স্লিপে স্মিথের হাতে ধরা পড়েন কাইল ভেরেইনা। এবারও কিছুটা ডানদিকে সরে গিয়ে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন স্মিথ। ৬ চারে ২৬ রান করা মার্কো ইয়ানসেনকে পরের ওভারে ফেরান জশ হেইজেলউড।
আড়াইশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা পড়া দলকে টানেন সাইমন হার্মার ও কেশাভ মহারাজ। একটি ছক্কা ও দুটি চারে ৩৪ রান করা মহারাজকে ফিরিয়ে ৫২ রানের জুটি ভাঙেন স্টার্ক।
শেষ জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন হার্মার ও আনরিখ নরকিয়া। তাদের ব্যাটেই মূলত ২৮০ ছাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার রান। বাউ ওয়েবস্টারের বলে স্মিথের হাতে নরকিয়া ধরা পড়লে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস।
একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্মার।
সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন কামিন্স। দুটি করে শিকার ধরেন স্টার্ক, হেইজেলউড ও লায়ন।
শতরানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন নিক ম্যাডিনসন। প্রায় ১০ বছর পর টেস্টে ফিরে প্রথম ইনিংসে শূন্য রান করা এই ব্যাটসম্যান পরে একটি ছক্কাও হাঁকান।
১৭ রান করে অপরাজিত আছেন ম্যাডিনসন। ১০ রানে খেলছেন ট্রাভিস হেড।
প্রথম দুই দিনের মতো এদিনও আলোক স্বল্পতায় আগেভাগে দিনের খেলার ইতি টেনে দেন আম্পায়াররা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৭৮ ওভারে ২৮৪ (আগের দিন ২৭/১) (মার্করাম ৩৭, বেডিংহ্যাম ৪৯, বাভুমা ৩, স্টাবস ৩২, মুল্ডার ৩০, ভেরেইনা ১৩, ইয়ানসেন ২৬, হার্মার ৩৫*, মহারাজ ৩৪, নরকিয়া ১৬; স্টার্ক ১৭-২-৬৩-২, হেইজেলউড ১৬-২৬-৫৪-২, কামিন্স ১৫-২-৫৪-২, লায়ন ২২-৩-৫৮-২, হেড ৩-০-২০-০, ওয়েবস্টার ৩-০-২৩-১, লাবুশেন ২-০-৬-০)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৫.৪ ওভারে ৩৩/০ (ম্যাডিনসন ১৭, হেড ১০*; ইয়ানসেন ৩-০-১৫-০, মুল্ডার ২.৪-০-১২-০)
তাজমিন হত্যা: ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ করে হত্যাকারীর বিচার চান
‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মকথা’ লিখতে চেয়েছিলাম
তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অসমাপ্ত লড়াই
কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওরফে ‘রঠা’কে নিষিদ্ধ করা জরুরি?