চলতি মাসের শেষ দিকেভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছেনিউজিল্যান্ড।দুই দফায় দল ঘোষণার পাশাপাশি ব্যাটিং পজিশনেও পরিবর্তন সাজাচ্ছে কিউইরা।এক্ষেত্রে ওপেনিং জুটির যাদের ‘ব্যাশ ব্রাদার্স’ বলা হয়—সেই বিন্যাসটি ভেঙে ফেলার কথা ভাবছে তারা। এর পরিবর্তে তারা ফিন অ্যালেনকে মিডল অর্ডারে খেলানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
২০২০ সালের পর থেকে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অ্যালেন ওপেনার ছাড়া অন্য কোনো পজিশনে খেলেননি।পরবতীর্তে২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো ওয়ানডে ম্যাচও খেলেননি। তবে মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের কিছুটা অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে লিংকনে ‘নিউজিল্যান্ড এ’ দলের হয়ে ‘ইন্ডিয়া এ’-র বিপক্ষে একটি ট্যুর ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি ৬৫ বলে ৮৭ রান করেছিলেন।
দল ঘোষণার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার বলেন, তাদের (অ্যালেন ও সাইফার্ট) একসঙ্গে ওপেন করার সম্ভাবনা কম। আমরা ফিনের জন্য মিডল অর্ডারে ভিন্ন কোনো ভূমিকা ভেবে রেখেছি। খেলাকে প্রভাবিত করার মতো তার যে সক্ষমতা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আমরা অবশ্যই এই বিকল্পটি যাচাই করে দেখতে চাই। ওয়ানডেতে ইনিংসের মাঝের সময়ে স্পিনার কিংবা দলের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলারের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলার সুযোগ থাকে। তাই ফিনকে দিয়ে আমরা সেই বিষয়টি পরখ করে দেখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি সে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, তবে ওয়ানডে ফরম্যাটের প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। অবশ্য এই ফরম্যাটটি তার কাছে অপরিচিত নয়; সে যথেষ্ট ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু এই নতুন ভূমিকাটি তার জন্য কিছুটা ভিন্ন। তাই দেখা যাক বিষয়টি কীভাবে এগোয়।
অ্যালেন যদি মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন, তবে প্রথম তিনটি ওয়ানডেতে সাইফার্টের সঙ্গে ওপেন করবেন ডেভন কনওয়ে। এরপর সফরের সাদা বলের পর্ব শেষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য কনওয়ে ওয়ানডে দল থেকে সরে দাঁড়াবেন। শেষ দুটি ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ের বিকল্প হিসেবে থাকবেন ব্ল্যাক ক্যাপসদের সাথে নতুন চুক্তিবদ্ধ হওয়া নিক কেলি।
বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার সুবাদে স্পিনের বিপক্ষে, বিশেষ করে ব্যাক ফুটে অ্যালেনের ব্যাটিংয়ের উন্নতি হয়েছে। ওয়াল্টারও একমত, মিডল অর্ডারে নতুন ভূমিকার জন্য অ্যালেনকে হয়তো তার মানসিকতায় ‘সামান্য পরিবর্তন’ আনতে হতে পারে।
ওয়াল্টার বলেন, আমরা আসলে দেখতে চাই মিডল অর্ডারে এমন কাউকে পেলে কেমন হয় যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে। এর মানে অবশ্য বেপরোয়া হওয়া নয়, কারণ কাজটা যদি এতই সহজ হতো, তবে সবাই সেটাই করত। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটের খেলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে; বিশেষ করে পিচ ভালো হলে ২৫ থেকে ৪০ ওভারের সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন বৃত্তের ভেতরে একজন বাড়তি ফিল্ডার থাকেন। তাই আমরা চাই সে তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলুক। তবে অবশ্যই কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
ওয়াল্টার আরও জানান, এই বছরের শুরুর দিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় তিনি ও অ্যালেন মিডল-অর্ডারে খেলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। মিডল-অর্ডারে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে অকল্যান্ড এসেসের কোচ রব নিকোলের সঙ্গেও অ্যালেনের কথা হয়েছে।
কিউই কোচ বলেন, আসলে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ই এই আলোচনাটা হয়েছিল। ঠিক মনে নেই সে আমার কাছে এসেছিল নাকি আমি তার কাছে গিয়েছিলাম, তবে আমরা সম্ভবত দুজনেই একই রকম কিছু ভাবছিলাম। আমি জানি, এসেসের রব নিকোলও তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তাই আমার মনে হয়, একই সময়ে বেশ কয়েকজন মানুষ একই কথা ভাবছিলেন। সে যেকোনো কিছুতেই চেষ্টা করতে রাজি এবং সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।
জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে নিউজিল্যান্ডের নির্বাচক ব্যবস্থাপক গ্যাভিন লারসেন বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, দেখুন, ফিন অসাধারণ প্রতিভাবান। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘বল-স্ট্রাইকার’ (শক্তিশালী শট খেলার দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাটার)। একটি প্রশ্ন হলো তার ভূমিকা বা রোল কী হবে, সে কি টপ-অর্ডারে খেলবে নাকি ফিনিশারের ভূমিকায় তাকে মানাবে? টিম সাইফার্টের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
বোর্ডেও এই কমকর্তা আরও বলেন, আমাদের একটি অত্যন্ত সফল ওয়ানডে দল রয়েছে। কেন উইলিয়ামসনকে সরিয়ে নিলে হয়তো বলা যেতে পারে যে দলে কিছু শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। তবে ৫০-ওভারের ফরম্যাটে আমাদের ব্যাটিং লাইন-আপও বেশ শক্তিশালী। এছাড়া সারা দেশে আরও উদীয়মান খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে।