1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রাক রপ্তানি তহবিলের সুদ হার বেড়ে ৬ শতাংশ কারাবন্দী আ.লীগ নেতাকে ছাড়াতে ‘বিএনপি ও তাঁতী দলের’ প্রত্যয়ন অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকে ৩০,১০৭ কোটি টাকা ধার নেবে সরকার ফের আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিতে চাইলেন জামায়াত নেতা আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেল হ্যালোর ৭ শিশু সাংবাদিক বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার, রাজনৈতিক বৈষম্য হবে না বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও যারা আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু

কারাবন্দী আ.লীগ নেতাকে ছাড়াতে ‘বিএনপি ও তাঁতী দলের’ প্রত্যয়ন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ Time View

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতার জামিনের জন্য বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের স্থানীয় নেতাদের দেওয়া দুটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যয়নপত্রে তাঁকে বিএনপির সঙ্গে ‘ওতপ্রোতভাবে জড়িত’ এবং কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ঘোষিত আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাঁর নাম ইউনিয়ন কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে।

কারাবন্দী ওই নেতার নাম মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেল। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাভার গ্রামের আলমাছ উদ্দিনের ছেলে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবরের কমিটিতে রুহুল আমিনকে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এখনো ওই পদে রয়েছেন।

সাটুরিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নানের স্বাক্ষরে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন।

প্রত্যয়নপত্রে আরও দাবি করা হয়, রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তিনি বিএনপির সংগ্রামী কর্মী।

এর আগে উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেনের স্বাক্ষরে ২৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। এতে রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবারকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৫ আগস্টের আগের সরকারের উৎখাতের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তাঁতী দলের প্রত্যয়নপত্রেও রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয় একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন সংগঠনের প্যাডে নিজেকে সভাপতি উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। বাবুল হোসেন প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রত্যয়ন দিয়েছি, এটা ঠিক। তবে এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত আছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে কথা বলব।’

ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, অন্য নেতাদের স্বাক্ষর দেখে তিনিও প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখনের কথা বলে তাঁকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না—জানতে চাইলে আবদুল মান্নান বলেন, তিনি রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং বা কোনো কর্মসূচিতে দেখেননি। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে রুহুল আমিনের কোনো ছবি দেখেননি বলেও জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কারও কথা হয়নি। রুহুল আমিনের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তিনি জানতেন। রুহুল আমিন আওয়ামী লীগে কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাঁর জানা ছিল না।

বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রত্যয়নপত্র দেওয়াটা ভুল হয়েছে। রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি আছে, তা জানা ছিল না। প্রত্যয়নপত্র তুলে নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেতাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়টি দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও বিচার পাওয়ার অধিকার নষ্ট হওয়া উচিত নয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তাঁর পক্ষে প্রত্যয়ন দেওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নূরতাজ আলম বাহার বলেন, কোনো আসামির পক্ষে প্রত্যয়ন বা সুপারিশ দেওয়া এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়া বা খালাস পাওয়া এক বিষয় নয়। মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। প্রত্যয়নপত্র আদালতের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।

রুহুল আমিন রুবেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ