দেশে একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় অপশক্তি ও দুষ্টু চক্র নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে এর সমস্ত দায়ভার ওই অপশক্তিকেই নিতে হবে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।’
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের অন্যায় কর্মকাণ্ডে শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব দরবারেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অথচ তারা আবার অন্যকে নসিহত করে বেড়ায়। দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, তারপর অন্যদের উপদেশ দিন। একটি দল একাত্তরের সেই বরবর রূপে ফিরে গিয়ে আবারও হত্যা ও নারী নিগ্রহে মেতে উঠেছে। সময় এসেছে জনসম্মুখে এদের আসল মুখোশ উন্মোচন করার।
দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন জনগণের কণ্ঠরোধ করে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ঐতিহাসিক রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যা দেশ ও মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পরপরই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও সরাসরি উপকৃত হয়েছেন দেশের ১৩ লাখ কৃষক।
স্বাস্থ্যখাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে এক হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডায়ালিসিস সেবা চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
ঘাটঘরে উদ্বোধিত মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প সম্পর্কে সরকারপ্রধান বলেন, এই বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ স্থায়ীভাবে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত এক লাখ মেট্রিক টন শস্য উৎপাদন বাড়বে; যা সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এর আগে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কপথে পরশুরামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে সরকার প্রধানের আগমন ও ফলক উন্মোচন পর্ব প্রত্যক্ষ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
পরশুরামের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা হস্তান্তর এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ একগুচ্ছ নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনীতে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০ জন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সরাসরি কার্ড গ্রহণ করবেন।