চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ধার নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিসেম্বর প্রান্তিক পর্যন্ত ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, সরকার নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে ধার নেবে। আগের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের নিট ধার নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার থেকে সরকার ২৯ হাজার কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় করেছে, যা গত অর্থবছরের থেকে ৫.২৫ শতাংশ কম। আবার সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করার কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বেড়েছে।
এ বছরের জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইতে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার পর ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে সব ধরনের ভাতা পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে তিন বছরে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যার মধ্যে চলতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এ ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া বাড়াচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার মূলত এ পরিমাণ অর্থ যে ব্যাংকিং খাত থেকে নেবে, তা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করবে, সেটি অর্থমন্ত্রণালয় বরাদ্দ ঠিক করে। তবে অতিরিক্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার ধার করলে বাজেটে সুদ বাবদ ব্যয় বাড়বে। তখন রাজস্ব আদায়ে আরো চাপ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশ ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, "সরকার ব্যাংক খাত থেকে অর্থ ধার করছে, তাতে বোঝা যায় সরকারের কোষাগারে তারল্য সংকট রয়েছে। তবে সরকার বেশি ব্যাংক থেকে টাকা ধার করছে, যা সাসটেইনেবল মেথোড নয়।"
তিনি বলেন, সরকার যে অর্থ ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে, সেটা তো সরকারকে আবার ফেরত দেওয়া লাগবে। তাহলে সরকার তখন সেই অর্থ কোথা থেকে জোগার করবে, সেটাই দেখার বিষয়।"
তিনি আরও বলেন, "ঋণের চাহিদা যখন বাড়বে তখন বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ব্যাংকে তারল্যের অবস্থা ভালো রয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে ধার বাড়তে থাকলে ব্যাংকিং খাতের ওপর এক ধরণের প্রভাব পড়বে।''
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, "পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। অর্থায়নের জন্য সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে, যা বাজেটে সুদ বাবদ ব্যয় বাড়বে। তখন রাজস্ব আদায়ের ওপর আরও বেশি জোর দিতে হবে।"
এ বিষয়ে একজন ব্যাংকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেহেতু বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা নেই, সুতরাং এই মুহূর্তে তেমন কোনো প্রভাব পড়ছে না। আর অনেকগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকে তারল্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রয়েছে। তবে যখন ঋণের চাহিদা বাড়বে তখন বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক নির্ভরতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.