ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের খেলা চলাকালে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে কোনো বাধা থাকছে না। নেশন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে খেলতে পারবেন পর্তুগালের এই অধিনায়ক।
ঘটনার সূত্রপাত প্রধান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে খেলার সময় নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো সময় বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসে থাকার পর কোচের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি`অরজয়ী এই তারকা। এরপরই তিনি ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রোনালদো জানান, নরওয়ের বিপক্ষে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছিলেন কোচ। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রস্তুতি নেন এবং বিরতির পর মাঠে নামার জন্য গা গরমও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।
রোনালদো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কি না। আমি রাজি হয়েছিলাম। তিনি আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে মাঠে নামাননি। কোচ আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেননি।
একই সঙ্গে ফেডারেশনের যেকোনো প্রশাসনিক শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
সোমবার রোনালদোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তির ঘোষণা দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। এর আগে তাকে সাময়িকভাবে দল থেকে বহিষ্কার রাখা হয়েছিল।
শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি হলেও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা এই কিংবদন্তির প্রতি নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। ফেডারেশন প্রধান বিশ্বাস করেন, কোচের সঙ্গে তৈরি হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ মিটিয়ে আবারও জাতীয় দলের নেতৃত্বে ফিরে আসবেন রোনালদো।
পেদ্রো প্রোয়েনসা মন্তব্য করেন, রোনালদো পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি আমাদের অধিনায়ক এবং দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী পর্তুগিজ ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ফলে অভ্যন্তরীণ শাস্তির মেয়াদ শেষ হলেই আগামী ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে তার মাঠে নামার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকছে।