প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছালেন শুভাগত হোম। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের দ্বৈত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। শুভাগতর রেকর্ডের দিনে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) বিভিন্ন ম্যাচে ব্যাটে-বলে নজর কেড়েছেন নাইম আহমেদ, সাব্বির রহমান ও আকবর আলীরা।
কক্সবাজারে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েন শুভাগত। ব্যক্তিগত ৭০ রানে পৌঁছাতেই বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের অলরাউন্ড ডাবল পূর্ণ হয় তার।
৪ উইকেটে ২২৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ প্রথম চার ওভারের মধ্যেই রিজান হোসেন (৪৪), সেঞ্চুরিয়ান মাহফিজুল ইসলাম রবিন (১১৬) ও আবু হায়দার রনিকে (৪) হারিয়ে ২৩২ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে অধিনায়ক রাকিবুল হাসানের (৬১) সঙ্গে ১২৮ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলকে ৩৮৭ রানের বড় সংগ্রহের পথ দেখান শুভাগত। তিনি নিজে করেন ১২৬ বলে ৭১ রান। ঢাকার হয়ে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৭৮ রানে ৪টি ও সুমন খান ৫৪ রানে ৩টি উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১২০ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ঢাকা। মোহাম্মদ নাইম ৯২ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকলেও তারা এখনও ২৬৭ রানে পিছিয়ে।
রাজশাহীতে দিনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল নাইম আহমেদের প্রথম ফার্স্ট-ক্লাস সেঞ্চুরি। তার অপরাজিত ১৭৬ (২৩৩ বল, ২৫ চার), সাব্বির রহমানের ৮৬ ও এস এম মেহেরব হাসানের অপরাজিত ৫৭ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ৪২৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে রাজশাহী বিভাগ। চতুর্থ উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে ১৫২ ও ষষ্ঠ উইকেটে মেহেরবের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের জুটি গড়েন নাইম। প্রথম ইনিংসে বরিশালের (২২৯) চেয়ে ইতোমধ্যে ১৯৫ রানের বিশাল লিড পেয়ে গেছে রাজশাহী।
চট্টগ্রামে রংপুর বিভাগকে ২০৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৪ রান তুলে ৭ রানের লিড নিয়েছে সিলেট বিভাগ। রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলী ৭৪ ও মিম মোসাদ্দেক ৫৯ রান করলেও শেষ ৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে তাদের প্রথম ইনিংস। সিলেটের অফ-স্পিনার নাইম আহমেদ ৩৩ রানে ৪টি ও নাসুম আহমেদ ৩টি উইকেট নেন।
অন্যদিকে সিলেটে চট্টগ্রাম বিভাগের বিরুদ্ধে ১১২ রানের লিড নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে খুলনা বিভাগ। চট্টগ্রাম তাদের প্রথম ইনিংসে ২৫০ রানে অলআউট হলে ৪৯ রানের লিড পায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে আফিফ হোসেনের অপরাজিত ৫৮ ও এনামুল হক বিজয়ের ৫৩ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তুলে দিন শেষ করেছে খুলনা।