(রাজশাহী), আরটিভি নিউজ
দুর্গাপূজার নবমীর দিনে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীতে আগমন প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফর বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, এর আগে কোন রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে কোথাও পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে যাননি। তিনি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি পূজার মধ্যে রাজশাহীতে আসছেন। শুধু রাজশাহী নয় রংপুর ও চট্টগ্রামে যাবেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মাদরাসা মাঠ পরিদর্শনে এসে প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান ভূমিমন্ত্রী। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপস্থিত হবেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ বহু গুণে বেড়ে গেছে। কারণ তিনি পূজার মধ্যে রাজশাহীতে আসছেন।
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর দুই অংশে অনুষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে তিনি দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করবেন ও দুপুর আড়াইটায় মাদরাসা মাঠে জনসভা ও ইক্ষু চাষীদের মাঝে প্রণোদনা দিবেন।
এর আগে, এই মাদরাসা মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক তারেক রহমানও ভাষণ দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম সফর রাজশাহীতে।
মন্ত্রী বলেন, বরাবরই রাজশাহীতে সমাবেশ বিপুল সমারোহে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহীবাসী। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন রাজশাহী বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। এক নজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ।
আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব রাজশাহীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। রাজশাহীর উন্নয়নে তার ভূমিকা অনেক। অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সব তিনি জানেন। আগামীতে রাজশাহী থেকে আরো তিনটি ট্রেন চালু হবে। এর মধ্যে একটি রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম, অপরটি রাজশাহী থেকে বিরতিহীনভাবে ঢাকা ও অপরটি রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত চলাচল করবে।
আশা করছি সুস্থ ও সফলভাবে এই জনসভা শেষ হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীর জনসভা শেষ করে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন।
এর আগে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জনসভা স্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় কোন ত্রুটি থাকবে না। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের বিভিন্ন রাস্তা। ইউনিফর্ম এর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা,রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মামুনুর রশিদ মামুন প্রমুখ।
এছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।