নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনির নামে একটি আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৩ অক্টোবর মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ওই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ভুল কনটেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। ঘটনা সামনে আসার সাথে সাথে ফেসবুকে ভিডিওটির লিঙ্ক জানতে চাওয়া নিয়ে অর্ধশতাধিক পোস্ট তৈরি হয়েছে। তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানায়, এসব পোস্টে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রাম অথবা অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘নিউজ বাংলাদেশ’ নামের একটি পেজও দুইটি ভিডিও সহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা দুই লাখের অধিকবার দেখা হয়েছে। ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার পরেও মাছরাঙা টিভির সোশ্যাল পোস্টগুলোতে লিঙ্ক জানতে চেয়ে অসংখ্য মন্তব্য এসেছে।
ঘটনায় মেহজাবীন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়ানো কোনো বিনোদন নয়; এটি একটি অপরাধ”। মেহজাবীন বলেছেন, শুধু যারা এই কনটেন্ট তৈরি করছে নয়, যারা জেনে-শুনে সেটি শেয়ার করছে তারাও বিবেকবোধ সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে। ‘শত শত মানুষ যখন একই কনটেন্ট শেয়ার করে, তখন বিষয়টি এক ব্যক্তির অপরাধের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়’, তিনি লিখেছেন। পরীমনি নিজে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য না করলেও, তার ফেসবুক পাতায় সমর্থনময় ও সমালোচনামূলক মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।-
অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশী ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট বলেন, এ ধরনের কৃত্রিম ভিডিও ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে ও তাদের সামাজিক মর্যাদায়ও আঘাত হানতে পারে। অনলাইন ট্রোলিং ও হয়রানি ভুক্তভোগীদের উদ্বিগ্ন ও একাকিত্ব অনুভব করিয়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়ায়। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাইকোলজিস্ট আরো বলেন, ভুক্তভোগীর প্রতি দোষ চাপিয়ে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে হবে এবং যারা এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।