মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: ফেইসবুক থেকে নেওয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের নাম ও চেহারা বিকৃত করে তৈরি করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।
তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, “কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?"
বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রযুক্তিভিত্তিক এমন অপরাধমূলক প্রবণতাকে স্রেফ ‘বিনোদন’ হিসেবে না দেখে, এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও বিবেকবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টে অভিনেত্রী মেহজাবীন লেখেন, “এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।”
গত মঙ্গলবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করে’ মেহজাবীন চৌধুরী ও অভিনেত্রী পরীমনিকে নিয়ে তৈরি কিছু ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দুই অভিনেত্রীর নামে এআই দিয়ে তৈরি বিতর্কিত এ কনটেন্ট প্রকাশের পর টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করে ভুয়া কনটেন্টগুলো সরিয়ে নেয় এবং অপপ্রচারের কথা জানিয়ে ব্যাখ্যা দেয়।
বিষয়টি তুলে ধরে মেহজাবীন তার পোস্টে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, “যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?”
কয়েকটি লাইক, ভিউ, শেয়ার কিংবা অর্থ উপার্জনের জন্য অন্যের সম্মানহানি করার মানসিকতাকে জঘন্য আখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, “অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করাই এখন জীবিকা নির্বাহের উপায়। সেই বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?”
ফেইসবুক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, "আর বিষয়টা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ, এনগেজমেন্ট আর ট্রেন্ডিংয়ের এই প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারে যে কেউ, আবার এর শিকারও হতে পারে যে কেউ।
“আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই মানুষটি নয়, যে এমন কিছু তৈরি করছে। বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় সেটি শেয়ার করছে, আলোচনা করছে এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।”
যারা এ কাজ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।"
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস ও অদৃশ্য শ্রমের গল্প
কী মধু ভিসি পদে, সবাই কেন ইঁদুর দৌড়ে?
‘হোটেল রুয়ান্ডা’র বাইরের গল্প এবং নাভি পিল্লাইয়ের লড়াই