1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

সুদানজুড়ে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত, গৃহযুদ্ধে প্রাণহানি ৫৯০০০

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ Time View

সুদানে গত কয়েক দিনে একের পর এক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সুদানের গৃহযুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, গতকাল সোমবার রাজধানী খার্তুমে ড্রোন হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, গত শুক্রবার থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সুদানের বিদ্রাহী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং সরকারি বাহিনী—উভয়ের বিরুদ্ধেই এসব হামলার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে একটি বাজারের কাছে এ হামলা হয়। এলাকাটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীরা জানান, বাজারের দিন শেষে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় একটি পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। সেখানে ড্রোন হামলা চালানো হলে ৮০ জন নিহত হন। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আহত আরও ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলাদ শহরে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ৩০ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আরএসএফের স্বঘোষিত প্রশাসন ‘তাসিস’ এবং ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এ হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

সুদানের বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফের নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোর—যিনি হেমেদতি নামেও পরিচিত—মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আরএসএফকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরেই সংঘাত শুরু হয়। জুন মাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে হেমেদতিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলোর ধারণা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ত্রাণ সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে সুদানজুড়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন। তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আনুমানিক ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিতে এবং দেশটির ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে চীন ও রাশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ