1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজশাহী নগরীর পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার লন্ডন উৎসবে সেরা সিনেমা ‘ইম্পেরিয়াম’ নান্দনিকের ৪৯ বছর পূর্তিতে নাটক ও সিনেমার প্রদর্শনী ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ সুদানজুড়ে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত, গৃহযুদ্ধে প্রাণহানি ৫৯০০০ বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস আজ নেতৃত্বের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের অপেক্ষায় রেহমাত বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা খোলার সম্ভাবনা নিয়ে বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ আয়োজন আগামী বছর থেকে আমেরিকার ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা মাস্কের ডলারের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে রিজার্ভ থেকে ২ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আগামী বছর থেকে আমেরিকার ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা মাস্কের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক প্রভাব নিয়ে যখন ক্রমেই কঠোর সমালোচনা হচ্ছে, তখন ইলন মাস্ক বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে তার ২ লাখ কোটি ডলার মূল্যমানের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেবেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, 'আগামী বছর আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেব। এটি হবে এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি।'

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে গত জুনে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে। গত শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ১৪৬ ডলার।

মাস্কের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি শিশুর মধ্যে কীভাবে এসব শেয়ার বিতরণ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি সব শিশুই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে কি না, সেটিও জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ। স্পেসএক্সের বর্তমান শেয়ারমূল্য অনুযায়ী, মাস্কের এই সম্ভাব্য উপহারের মোট মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০৭০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তরুণদের অংশীদারত্ব দেওয়ার ধারণাটি অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ১৮ বছরের কম বয়সী লাখ লাখ শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস' নামের নতুন একটি সরকারি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া শিশুরা এই কর্মসূচির আওতায় এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অনুদান পাওয়ার যোগ্য।

গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল ও তার স্বামী প্রতিশ্রুতি দেন, ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এমন প্রায় ২০ লাখ শিশুকে তারা স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেবেন। এই দম্পতি জানিয়েছেন, তারা কম আয়ের পরিবারের শিশুদের এবং স্পেসএক্সের নিজস্ব অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের শিশুদের শেয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবেন।

রোববার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক একটি ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মাস্কের এই প্রস্তাব আসে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা তাদের অন্তত ৫ শতাংশ শেয়ার একটি 'জনকল্যাণ তহবিলে' দেবে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বেসরকারি মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব শেয়ারের মূল্য চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এই তহবিল থেকে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সরাসরি অর্থ বিতরণ করা হতে পারে।

অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, এই অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে এমন নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মাস্ক এক্সে এর জবাবে লিখেছেন, 'আমি সরাসরি সাধারণ মানুষের মধ্যে শেয়ার বিতরণের পরামর্শ দিচ্ছি… আমি নিজে এটাই করব।'

২০১২ সালে মাস্ক 'গিভিং প্লেজ' নামের একটি অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, তাঁরা জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পর নিজেদের উইলের মাধ্যমে সম্পদের বেশির ভাগ দাতব্য কাজে দান করবেন।

মাস্কের দাতব্য সংস্থা 'মাস্ক ফাউন্ডেশন'-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সংস্থাটি কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুদান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং শিশুদের চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা।

গত বছর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ মাস্ক ফাউন্ডেশনের সম্পদের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

তবে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর ফাউন্ডেশনটির অনুদানের বড় অংশ এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে গেছে, যেগুলোর সঙ্গে মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এসব দাবি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে স্পেসএক্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

প্রচলিত পদ্ধতিতে দাতব্য অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন মাস্ক।

গত বছর 'পিপল বাই ডব্লিউটিএফ' নামের একটি পডকাস্টে দাতব্য কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাস্ক বলেন, 'আমাদের এমন কাজ করার চেষ্টা করা উচিত, যা অন্য মানুষের উপকারে আসে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার দাতব্য সংস্থার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে এমনভাবে অর্থ ব্যয় করা যায়, যাতে তা সত্যিকার অর্থে মানুষের উপকারে আসে, তা খুঁজে বের করা।'

মাস্ক বলেন, 'ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার জন্য অর্থ ব্যয় করা খুব সহজ। কিন্তু বাস্তবে মানুষের উপকার হয়, এমন কাজে অর্থ ব্যয় করা খুব কঠিন।'

২০২১ সালে মাস্ক বলেছিলেন, তিনি টেসলার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করে সেই অর্থ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে দান করবেন। তবে এর জন্য তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, সংস্থাটিকে দেখাতে হবে কীভাবে ওই অর্থ দিয়ে 'বিশ্বের ক্ষুধার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব'।

এখন পর্যন্ত মাস্ক ওই পরিমাণ অর্থ দান করেছেন বলে মনে হয় না।

মাস্ক ও অ্যানথ্রপিকের এই দুটি উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তিপণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক নিজেই সতর্ক করে বলেছে, এই প্রযুক্তি 'মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি' তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল আকারের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এসব তথ্যকেন্দ্রের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়ছেন।

ফেসবুকের এক কর্মীর প্রতিষ্ঠানের অনিরাপদ কার্যক্রমের তথ্য ফাঁস করার ঘটনা নিয়ে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র 'দ্য সোশ্যাল রিকনিং' এবং রক্ত পরীক্ষাবিষয়ক নতুন উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও দণ্ডিত প্রতারক এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র 'ইউ ক্যান সি এভরিথিং' দর্শকদের আবারও প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের দায়িত্বহীনতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ইলন মাস্ককে নিয়েও 'মাস্ক' নামে একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। এতে তার জীবন ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে তার কিছু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ