1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
খুলনা হয়ে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত দল’ যৌথভাবে চক্রান্ত-অপপ্রচার চালাচ্ছে: রিজভী বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ-সেরা হওয়ার পর নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়া পেসার ‘মোটেও ভালো মনে হচ্ছে না’, সাকার চোট নিয়ে চিন্তিত আর্তেতা বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনা করতে চান না আফগানিস্তান কোচ মানিকগঞ্জে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, অবরোধের পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী’র গোলাগুলি, সরিয়ে নেওয়া হলো পর্যটকদের মেঘনাপাড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী চাঁদপুর জেলা ইজতেমা হেফাজতের নেতৃত্বে গঠিত হচ্ছে ‘সমমনা ইসলামী দল’

মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালুর উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা ও বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো সহজ করার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এর মধ্যে মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশটিতে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এ অঙ্ক ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এবং অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা জটিলতার কারণেই বৈধ রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে তিনটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৮ অক্টোবর এমএমএ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।

প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জন দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের মাধ্যমে এমএমএর সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা এবং নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

মালদ্বীপে বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি। এত বড় বাংলাদেশি কর্মীসমাজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন। ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে আগে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যোগ হওয়ায় বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, যার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। বাসস

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ