1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজশাহীতে ৪৫ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় নোয়াখালীর বিভিন্ন পূজামন্ডপে জেলা পরিষদের অনুদান প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাজছে রংপুর, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দল যাতে বিব্রত না হয়, সেজন্যই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত: ইশরাক শারদীয় সাজে ভক্তদের চমকে দিলেন অভিনেত্রী সেমন্তী ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলও ওঠে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল বিদেশে বাংলাদেশিদের মামলার তথ্য সরকারকে জানানোর প্রত্যাশা করে ঢাকা : হুমায়ুন কবির ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেন ও সূচক এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা বোর্ডে এসএসসি পাস কারা বৃত্তি পাবে, তালিকা প্রকাশ

দল যাতে বিব্রত না হয়, সেজন্যই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত: ইশরাক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ Time View

“গণমাধ্যমের ভূমিকায় আমি হতাশ হয়েছি, কেন আমাকে এভাবে টার্গেট করা হল,” বলেন পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর ভিডিও নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেছেন, তার কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে ‘বিব্রত না হয়’ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ ‘আড়ালে পড়ে না যায়’, সেজন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাকের ভাষ্য, গত ১৭ অক্টোবর গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে অভিযানটির মূল উদ্দেশ্য ‘আড়ালে’ পড়ে যায়।

“গণমাধ্যমের ভূমিকায় আমি হতাশ হয়েছি, কেন আমাকে এভাবে টার্গেট করা হল,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, “আমি মনে করছি যে আমার এই মাদকের বিরোধী অভিযান কেবলমাত্র শুরু হলো, এটি চলমান থাকবে। যতদিন চলমান থাকবে, আমার কারণে যাতে আপনার কোনো কর্মকাণ্ড ম্লান হয়ে না যায়, ঢাকা না পড়ে যায়, আমার দল যাতে কোনো কারণে বিব্রত না হয়।”

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পাশাপাশি তিনি মাদক নির্মূলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাতে ‘সম্মতি’ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের গেণ্ডারিয়া এলাকার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

মাদক বিক্রির পাশাপাশি এলাকাটি বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্থানীয় থানা-পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারাও উপস্থিত থাকতেন।

তিনি বলেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র পাঠানো এবং ফাঁড়ির জন্য জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ইশরাকের দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বরের একটি বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটিতে ‘সামাজিক প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন ইরশাক। তবে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আগেভাগে জানালে তা ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সংশ্লিষ্টদের খবর দেওয়া হত বলে তার ভাষ্য।

অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

শনিবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন।

একটি ভিডিওতে গেণ্ডারিয়ার রেললাইনের পাশের একটি এলাকায় তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ওই ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনাকে ‘পিস্তল উঁচিয়ে ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে বর্ণনা করে।

তুমুল বিতর্কের মধ্যে ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

এরপর রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।

এরপর সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইরশারক।

সেদিনের অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ইশরাক বলেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় প্রবেশের পর একদল লোককে ছুটোছুটি করতে দেখেন তারা। এ সময় ‘নিজের নিরাপত্তার জন্য’ তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন।

তার দাবি, পরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এলাকায় হেঁটে বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি ও সেবনের চিত্র দেখতে পান। কয়েকটি ভবনে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনভর্তি একটি স্কুলব্যাগ, প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এসব সামগ্রী কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ‘সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি’ বলে দাবি করেন ইশরাক। অভিযানের পর ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

এই বিএনপি নেতা বলেন, কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং অভিযানে যাদের পাওয়া গেছে, তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করাই ছিল লক্ষ্য।

ইশরাক দাবি করেন, অস্ত্রটি তিনি কাউকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেননি। নিজের নিরাপত্তার জন্য ‘অল্প সময়ের জন্য’ হাতে রেখেছিলেন।

তার বক্তব্য, অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ‘আড়ালে’ চলে যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, তার নামে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে—একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল। অভিযানের সময় দ্বিতীয় অস্ত্রটি লাইসেন্সধারী এক সহকর্মীর কাছে রাখা হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ