বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ওসিকে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’- এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান।
মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয় বলে কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে নির্বাচনি বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে।
তবে পুলিশ অভিযোগের সঙ্গে আব্দুস সালামের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে চাইলে মতিউর রহমান সাগর ক্ষুব্ধ হন এবং ওসি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।
পরে ওসিকে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’ বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠে।
এর মধ্যে এই কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মতিউর রহমান সাগরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে বহিষ্কারের পর নিজের ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, “যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল- আলহামদুলিল্লাহ।”
এর আগেও গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, এর আগেও সাগরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ছিল। এমনকি ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনায় দলীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাগর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও জানান এই সংসদ সদস্য।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে আমরা কতটা চিনি
এল চ্যাপো টু পিচ্চি রাজা: মাদকের টাকায় খুলে যায় কারাগারের তালা
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে কে?
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল