বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
গান্ধীজয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছেন হিন্দি সিনেমার অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
অভিনেতা বলেছিলেন, ভারতীয়রা অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ ও উদার হলেও দেশে এখন আর আগের মত ‘শান্তি’ অনুভব করেন না তিনি। সোশাল মিডিয়ায় সঞ্জয়ের কথাটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা, সমালোচনা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একটি বিবৃতি দিয়ে সঞ্জয় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন; তার বক্তব্যের ‘ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং টেলিভিশন সঞ্চালক শেখর সুমনের আলোচিত টক শো ‘শেখর টুনাইট’-এ গিয়ে গান্ধীজয়ন্তীর বিশেষ পর্বে দেশ নিয়ে মন্তব্যটি করেন তিনি।
দেশের মানুষ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, তিনি মনে করেন তার দেশের মানুষ খুবই ভালো, উদার ও অতিথিপরায়ণ। কিন্তু ইদানিং মনে হচ্ছে, দেশে এখন আর আগের মত সেই শান্তি নেই।
“আমি প্রার্থনা করি যেন সেই দিনগুলো আবার ফিরে আসে।”
অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক পর্বে সঞ্জয় তার জনপ্রিয় ‘মুন্না ভাই’ চরিত্রের ঢংয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অভিনয় করে রাজনীতি, মহাত্মা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করেন।
গান্ধীর তিন বানরের প্রসঙ্গ টেনে সঞ্জয় বলেন, “এখন চতুর্থ একটি বানরও দরকার। কারণ কেউ খারাপ কিছু দেখলে সেটি ঠিক করবে কে?”
অনুষ্ঠানে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু হয় সঞ্জয়ের কথা নিয়ে বিতর্ক ও কটাক্ষ।
সঞ্জয়ের কাছে বেশিরভাগ মানুষের প্রশ্ন, তিনি কোন সময়ের কথা বলছেন? ‘আগের সেই দিন’ বলতে তিনি কোন দিনগুলো বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রতিক্রিয়া এসেছে রাজনৈতিক মহল থেকেও। বিজেপির মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদ সদস্য পরিনয় ফুকে সঞ্জয় দত্তের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ভারতে শান্তি না পেলে সঞ্জয়ের উচিত পাকিস্তান বা ইয়েরওয়াড়া জেলে চলে যাওয়া উচিত।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে সঞ্জয় দত্তের মন্তব্য সমর্থন করেন।
তিনি বলেন, দেশের দেশে নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও উদ্বিগ্ন হতে পারেন, তাতে দোষের কিছু নেই।
এরপর সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়ে সঞ্জয় স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অভিনেতা লিখেছেন, “কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের ভাবাবেগে আঘাত করা, কাউকে অপমান করা বা অসম্মান করা কখনওই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
নিজের মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সঞ্জয় বলেন, ওই কথোপকথনটি আগে থেকেই চিত্রনাট্য হিসাবে তৈরি করা ছিল এবং সেটিকে হালকা মেজাজে, রসিকতার ছলে উপস্থাপন করাই উদ্দেশ্য ছিল। নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের হাস্যরস ও ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার সঙ্গেও বিষয়টির তুলনা করেন তিনি। বিশেষ করে ওই সিনেমায় দেখানো ‘গাঁধীগিরি’র প্রসঙ্গ টেনে সঞ্জয় বলেন, এর মূল ভাবনাই হল ভালবাসা, উষ্ণতা, একসঙ্গে থাকা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য।
লিখিত বিবৃতি দিয়েও দায় সারেননি সঞ্জয়।
হাতজোড় করে ভিডিও বার্তা দিয়ে সঞ্জয় বলেন, “অনুষ্ঠানে বলা কথাগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত নয়। এই অংশটিই ছিল চিত্রনাট্যনির্ভর এবং ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা।”
সঞ্জয়কে আগামী দিনে দেখা যাবে ‘খলনায়ক রিটার্নস’ সিনেমায়। এটি তার ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘খলনায়ক’-এর সিকুয়েল।
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমীকরণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আমাদের কালের কাঙাল হরিনাথ