1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

ইসলামী ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেক—মুনাফা থেকে এসেছে মাত্র ৫ লাখ টাকা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ Time View

দেশের ১০টি ইসলামী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথমার্ধে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ১৮.৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই সিএসআর ব্যয়ের প্রায় অর্থই এসেছে সন্দেহজনক আয়, জাকাত তহবিল ও আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ থেকে। একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক নিট মুনাফা থেকে ব্যয় করেছে, তা-ও মাত্র ৫ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি–জুন সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে সিএসআর কার্যক্রমে মোট ১১৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে ব্যয় কমেছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।

এই ব্যয়ের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১০৩ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলো ১৩ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ২.৩০ কোটি টাকা ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, মূলধন ঘাটতি ও ঋণ প্রবাহে ধীরগতির কারণে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা অনেকাংশে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএসআর ব্যয়েও।

২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে একই ১০ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬.৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭.৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল নিট মুনাফা থেকে, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছিল সন্দেহজনক আয়, জাকাত তহবিল এবং আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ থেকে।

এই ১০টি ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে পরবর্তীতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে।

বিনিয়োগ কার্যক্রমে ত্রুটির কারণে যে আয় শরিয়াহ নীতির পরিপন্থি বলে বিবেচিত হয়, তাকে সন্দেহজনক আয় বলা হয়। অন্যদিকে ইসলামী অর্থায়নে ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে অর্থ আদায় করা হয়, তাকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ বলা হয়। এগুলোকে মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং আলাদা অ্যাকাউন্টে রেখে দাতব্য কাজে ব্যবহার করা হয়।

ব্যাংকাররা বলেন, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা কমে যাওয়ায় সিএফআর ব্যয়ের সক্ষমতাও অনেকাংশে কমে গেছে।

ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল উদ্দিন জসিম টিবিএসকে বলেন, ব্যাংকের সিএফআর ব্যয় মূলত নির্ভর করে নিট মুনাফার ওপর। ইসলামী ব্যাংকগুলো একসময় ব্যাপকভাবে সিএফআর খাতে ব্যয় করত।

'এখন ইসলামী ব্যাংকগুলো বিগত আমলের ঋণ অনিয়মের কারণে আর্থিক সূচকে খুবই খারাপ অবস্থানে রয়েছে, যার কারণে অধিকাংশ ইসলামী ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি,' বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দুই ডজনের বেশি ব্যাংক মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণে জর্জরিত। এছাড়া প্রায় ২০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এসব ব্যাংকের অনেকগুলোই নিট লোকসানে থাকায় সিএসআর খাতে ব্যয় করতে পারেনি।

'অনেক ব্যাংক সিএসআরে কিছুটা ব্যয় করলেও তা ভিন্ন খাত থেকে আয় করা অর্থ থেকে করেছে,' বলেন তিনি।

ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমেছে ৭৮ কোটি টাকা

জানুয়ারি–জুন সময়ে ১৮টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো ব্যয় করেনি।

মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৪.১৩ কোটি টাকা (২০ শতাংশ) শিক্ষা খাতে, ৩৪.৬৬ কোটি টাকা (২৯ শতাংশ) স্বাস্থ্যসেবায়, ১১.৭২ কোটি টাকা (৯.৮৪ শতাংশ) পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও অভিযোজন খাতে এবং ৪৮.৫৩ কোটি টাকা (৪০.৭৭ শতাংশ) অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর গাইডলাইন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে সাধারণত তাদের বার্ষিক নিট মুনাফার ১ শতাংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। গাইদলাইনে সিএসআর ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত কার্যক্রমে এবং বাকি ২০ শতাংশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমাজকল্যাণ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে ব্যয়ের সুপারিশ রয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৪টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) সিএসআর খাতে ১.২৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তবে মধ্যে ২৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এক টাকাও সিএসআর খাতে ব্যয় করেনি।

সিএসআর ব্যয়ে বাধা দুর্বল আর্থিক অবস্থা

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতের চিত্র তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত, ১৫টি বেসরকারি ও একটি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ২২টি ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২.৫৩ লাখ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ খেলাপি ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর উপার্জন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জন করলেও প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় ও সম্ভাব্য ক্রেডিট লস সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংক নিট ক্ষতিতে পড়ছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ