1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এবার এশিয়ার বাজারও দখলে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, রপ্তানির জোয়ার ঢাকায় একদিনে গ্রেপ্তার ৪৪৭, মামলা ৫৮ দেশভাগের পর প্রথম: চালু হল আসাম-ঢাকা নৌপথ, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসছে ৫৪০ টন মিথানল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একই স্থানে দুই দুর্ঘটনা, নিহত ১ ইউনিক বিজনেস আইডিতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামানোর পরিকল্পনা সরকারের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ জনকে কামড় দেওয়া কুকুরকে পিটিয়ে মারল জনতা নোবেল ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অনন্য রেকর্ড শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট জব্দ জোয়ারের সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই করে টিকে থাকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীরা ভারতভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন

ইউনিক বিজনেস আইডিতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামানোর পরিকল্পনা সরকারের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ Time View

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে উদ্যোক্তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিজনেস আইডি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই আইডির মাধ্যমে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিভিন্ন লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে। এতে ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় সময় কমিয়ে ১৪ দিনে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বর্তমানে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন পেতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা দেওয়ার একক প্ল্যাটফর্ম 'বাংলাবিজ'-এর জন্য ১৪ দিনের একটি 'বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ' তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর ব্যবসা শুরু করার আগে একজন উদ্যোক্তাকে একাধিক লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন নিতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও ব্যাংক হিসাব খোলার পাশাপাশি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয় উদ্যোক্তাদের।

এর মধ্যে অনেক শর্তই আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) পাওয়ার পূর্বশর্ত। ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, কোম্পানি নিবন্ধন থেকে এলসি খোলা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৮০ থেকে ৩৫৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি টিবিএসকে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় একটি শর্ত পূরণের সঙ্গে আরেকটি শর্তের নির্ভরতা থাকায় ব্যবসা শুরুর পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, "ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগের মূল বিষয় হলো—সব কমপ্লায়েন্স বাদ দেওয়া নয়; বরং এলসি খোলার আগে যেসব পূর্বশর্ত এখন বাধ্যতামূলক, সেগুলো কমিয়ে আনা বা কিছু শর্ত 'পোস্ট-ফ্যাক্টো' করা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে সম্পন্ন করা।"

নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তা প্রথমেই একটি ইউনিক বিজনেস আইডি পাবেন। ওই আইডি ব্যবহার করেই সংশ্লিষ্ট সব সেবার জন্য আবেদন করা যাবে।

"আপনি যখন কোনো কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন, তখন আপনার একটি ইউনিক আইডি তৈরি হবে। ওই ইউনিক আইডি দিয়ে একটি সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্মে সবকিছুর জন্য আবেদন করবেন," বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোম্পানি নিবন্ধন, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদাভাবে একই নথি জমা দিতে হবে না। একবার জমা দেওয়া তথ্য বিজনেস আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা ব্যবহার করতে পারবে।

নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিজনেস আইডির মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তার পুরো ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হবে। কোন অনুমোদন কখন নেওয়া হয়েছে, কোনটি বাকি এবং কোনো আবেদন কোন পর্যায়ে আটকে আছে—এসব তথ্য একটি ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।

এতে কোনো উদ্যোক্তা প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা শুরুর কাজ এগিয়ে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী কমপ্লায়েন্স সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও তা জানতে পারবে। প্রয়োজনে পরিদর্শন বা যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে।

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে তিনটি মূল নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এগুলো হলো—কমপ্লায়েন্সে ছাড় না দেওয়া, পুরো প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল করা এবং ব্যবসা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় পূর্বশর্তের সংখ্যা যৌক্তিকভাবে কমিয়ে কিছু শর্ত পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় ধাপ এবং কোন পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন দরকার, তার ম্যাপিং শেষ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিধিমালা পরিবর্তনের কাজও শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়া, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা এবং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চলছে।

বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান টিবিএসকে বলেন, "সরকার ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা সেটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে উদ্যোগটি যেন শুধু নীতিমালা বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বাস্তবে কার্যকর হয়—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।"

২০২১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে একটি ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সুপারিশ পাঠিয়েছিল। তবে এরপর এ বিষয়ে আর অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার ই-কমার্স খাতের ব্যবসার জন্য ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ডিবিআইডি) চালু করে।

আবুল কাসেম খান বলেন, ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, "সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে ব্যবসা শুরুর পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও সিস্টেমেটিকভাবে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে উদ্যোক্তা অনলাইনে আবেদন করার পর তার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, পরবর্তী ধাপ কী—সবকিছু ট্র্যাক করতে পারবেন। সার্ভার ধীর হয়ে যাওয়া বা ডাউন হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না।"

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

বিল্ড চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেন, শুধু ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ না করে প্রয়োজনে এ ধরনের আলাদা লাইসেন্স ব্যবস্থাই বিলুপ্ত করে একটি একক ব্যবসায়িক পরিচয় নম্বর চালু করা উচিত।

তিনি বলেন, "ট্রেড লাইসেন্স একটা লাইসেন্স, এটা একটা নম্বর। আমরা যেটা প্রস্তাব করেছিলাম, সেটা খুবই সহজ—একটা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকা উচিত, যেটা দিয়ে আমি অনলাইন ব্যবসা করতে পারব, আমদানি-রপ্তানি করতে পারব, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারব, বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারব।"

আবুল কাসেমের মতে, ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর সময়ের বাস্তবতা আর বর্তমান বাস্তবতা এক নয়। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে কয়েক দশক আগে চালু হওয়া অনেক লাইসেন্স ও নিয়ম বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় কি না, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার।

তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন কোন লাইসেন্স তাদের সবচেয়ে বেশি হয়রানিতে ফেলছে, তা চিহ্নিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স বাদ দিতে হবে।

"বাংলাদেশে বসে আপনি সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ে কোম্পানি খুলতে পারবেন। কিন্তু নিজের দেশে বসে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না কেন?" বলেন তিনি।

আবুল কাসেম বলেন, সরকারের মূল নজর হওয়া উচিত ব্যবসাটি আইনসম্মত কি না এবং উদ্যোক্তা যথাযথভাবে কর দিচ্ছেন কি না।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, ব্যবসা শুরুর সংস্কারের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ইতোমধ্যে কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে সংস্কারের কিছু প্রাথমিক ফল পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে সংস্কারের বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন এবং প্রায় এক বছরের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ