1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

কালাইয়ে তিন দশক ধরে রাস্তাবিহীন বান্ডইল গ্রাম

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ Time View

ছোট্ট একটা গ্রাম বান্ডইল সীমান্তপাড়া। গ্রামটিতে বসবাস করেন অর্ধশতাধিক পরিবার। কিন্তু চলাচলের জন্য নেই কোন রাস্তা। বগুড়া জেলার সীমান্তঘেঁষা নুনগোলা খালেরপাড় ধরে হেঁটে চলাচল করতে হয় গ্রামবাসীকে। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা এ পথে চলাচলের জন্য নেই কোন যানবাহন। তাই বাধ্য হয়েই হেঁটে বা বাইসাইকেলে চলাচল করতে হয় গ্রামবাসীকে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়র্ডের অন্তর্ভুক্ত এই বান্ডইল গ্রাম; যা শিকটা সীমান্ত পাড়া নামেও পরিচিত।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে নদী ভাঙনে ভিটে মাটি হারিয়ে জামালপুর জেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে এসে তারা উপজেলার সরকারি বান্ডইল শ্মশান ঘাটের ৮৩ শতক জায়গার ওপরে বসবাস শুরু করেন। গত তিন দশক ধরেই তারা এখানেই বসবাস করছেন এবং এখানকার ভোটার হয়েছেন। বর্তমানে বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। যেখানে ভোটার রয়েছে প্রায় শতাধিক। কিন্তু এই গ্রাম থেকে জয়পুরহাট-বগুড়া প্রধান সড়কে যাওয়ার জন্য নেই কোন রাস্তা। ফলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রামবাসীকে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও গর্ভবতী নারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। গর্ভবতী নারীকে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে কাঠের পাটাতনে শুইয়ে দিয়ে ভাড়ে করে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয় যা খুবই কষ্টসাধ্য ও রোগীর জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সীমাহীন এসব দুর্ভোগ যেন গ্রামবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী।

ভুক্তভোগী বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আমিনুর ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ি ছিল জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানায়। নদী ভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি সব ভেঙে যাওয়ার কারণে বস্ত্রহারা হয়ে আমরা এসেছি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সীমান্তপাড়া গ্রামে। কিন্তু রাস্তা না থাকায় আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। এ রাস্তাটি অতি তাড়াতাড়ি করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই।

বান্ডইল গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা বেগম বলেন, প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামে আমাদের বসবাস যেখানে কোনো যানবাহন চলে না। গর্ভবতী মেয়েদের জন্য খুব সমস্যা হয়। আমার একটা মেয়ে গর্ভবতী। জরুরি হাসপাতালে নিতে হলে কীভাবে নিব? যেখানে নেই কোন রাস্তা, নেই কোন যানবাহন। হাসপাতালে নিয়ে যেতে আমার মেয়ের কিছু হলে সে দায়ভার কে নেবে? আমরা চাই সরকার দ্রুত এই রাস্তাটা করে দিক। যাতে হাসপাতালে সময়মতো না নেওয়ার জন্য কোন মায়ের বুক খালি না হয়।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা দেলোয়ার বলেন, শিকটা সীমান্তপাড়া গ্রামে আমরা দেড় থেকে দুইশো লোক বসবাস করি। আমাদের রাস্তাঘাট নাই। আমরা রাস্তার জন্য খুব কস্টে আছি। দীর্ঘদিন হলো আমাদের রাস্তা কেউ ঠিক করে দেয়নি। ২ কিলোমিটার এ রাস্তা নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। সরকারের কাছে আবেদন জানাই আমাদের রাস্তাটি তারাতারি করে দেওয়ার জন্য।

পুনট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোর্শেদ ইসলাম বলেন, পুনট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামের ভোটার সংখ্যা ১২০ জন এবং সবমিলিয়ে জনসংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। কিন্তু বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামের কোন রাস্তা নেই। তাদের শিশুরা লেখাপড়ার জন্য এবং রোগীদের নিরাপদে ও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রাস্তা খুবই প্রয়োজন। তাই আমি গ্রামবাসীর দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই, বান্ডইল সীমান্তপাড়া গ্রামের রাস্তাটা যেন দ্রুত করা হয়।

কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, জয়পুরহাট-বগুড়া রোড থেকে বান্ডইল গ্রামের যে রাস্তা সেটি কিছুদিন আগে গেজেটভুক্ত হয়েছে। আমরা পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পাকাকরণের অনুমোদন এলে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতির অভাব হয় না, কিন্তু ভোট পার হলে আর কারও দেখা মেলে না। এখান থেকে কোনো রোগীকে জয়পুরহাট-বগুড়া প্রধান সড়কে নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় রোগীকে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে যেতে মারাও যায়। তাই সরকার ও কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রামবাসীর দাবি বান্ডইল গ্রামের রাস্তাটি যেন দ্রুত নির্মাণ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ