এই চুক্তিকে দেশের এভিয়েশনের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছে বিমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে বুধবার এ বিষয়ে চুক্তি হবে। যদিও এসব উড়োজাহাজ কিনতে সরকারের ঠিক কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে সে বিষয়ে বিমান বা এয়ারবাস কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হবে। এই চুক্তিকে বিমানের বহর সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের এভিয়েশনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও মনে করছে তারা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার এমডি ইয়োর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) অনুষ্ঠানে ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে হলে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। বিষয়টি বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে নেবে, সেটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘ভালো পরীক্ষা’ বলেও বর্ণনা করেন তিনি।
তার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারের তরফে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা আসে। ওইদিন প্রেস বিফ্রিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “ভূরাজনৈতিক চাপে নয়, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।”
একসঙ্গে ১০টি এয়ারবাস কেনার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চারটি সুপ্রশস্থ এ ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি ন্যারো বডির এ ৩২১ নিও উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের মধ্যে বিমানের জন্য মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা এল। এর মধ্যে বোয়িং থেকেই দুই দফায় ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এখন এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হলে আরও ১০টি উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে। ছবি: পিআইডি
‘লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে চায় সরকার’
বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জার্মানির তথা ইউরোপের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষস্থানীয় বিমানসংস্থা লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে সরকারের আগ্রহের কথা বলেছেন বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একইসঙ্গে দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল কেন্দ্র স্থাপন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় মেনটেইন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) স্থাপনের বিষয়ে লুফথানসার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।”
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল (এইচআরসিএম)’ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে যাওয়া কার্গোর ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা বিমান বাংলাদেশের উন্নয়নে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কাজ করছি। তবে এয়ারবাসের ডেলিভারির সময়কাল এগিয়ে আনা জরুরি।”
২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি শুরু হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে কে?
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমীকরণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা