শেষ দিনে দলের বিপদে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করেছেন আকবর আলি ও সাব্বির রহমান।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন মাহফিজুল। ছবি: বিসিবি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
১৪ ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি স্রেফ একটি করে। গড় ১৮.৯২। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাহফিজুল ইসলাম রবিনের পরিসংখ্যানের চিত্র ছিল এমনই করুণ। নতুন মৌসুমে সেখান থেকে উত্তরণের শুরুটা দারুণ করলেন ময়মনসিংহের তরুণ এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করা ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ফিফটি।
এই ইনিংসেই ৫ উইকেট নিয়েছেন সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ। অন্য ম্যাচে মিরপুরে চরম বিপদে পড়া রংপুরকে উদ্ধার করেছেন অধিনায়ক আকবর আলি। চট্টগ্রামে রাজশাহীর হয়ে স্বভাববিরুদ্ধ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করেছেন সাব্বির রহমান।
ড্র হয়েছে এই তিনটি ম্যাচই। প্রথম রাউন্ডের অন্য ম্যাচে আগের দিনই বরিশালকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছিল খুলনা।
আশ্বিনের বৃষ্টি আর আকবরের লড়াইয়ে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে রংপুর। আগের দিন শূন্য রানে তিন উইকেট হারানো দল শেষ দিন শুরু করে পরাজয়ের চোখরাঙানি নিয়ে। তবে সকালেই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে দুই ঘণ্টার বেশি। লাঞ্চ বিরতি নেওয়া হয় আগেভাগেই।
লাঞ্চের পর খেলা শুরু হলে বিপদে পড়ে যায় ময়মনসিংহ। নাইটওয়াচম্যান আবু হাশিমকে ফেরান সুমন খান। ইকবাল হোসেনের লড়াই শেষ হয় ২০ রানে। রংপুরের রান তখন ৫ উইকেটে ৪২। লিড ৯৮ রানের।
আকবর এরপর মূল্যবান জুটি গড়েন চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে। ৬৬ রান যোগ করেন দুজন। ২৭ রান করা রিজওয়ানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইবুর রহমান।
এরপর দুই অভিজ্ঞ মাহমুদুল হাসান ও আলাউদ্দিন বাবু শূন্য রানে ফিরলে আবার বিপদে পড়ে যায় রংপুর। তবে আকবর লড়াই করে উদ্ধার করেন দলকে।
১৯৩ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ৬৪ রান করে আউট হন আকবর। ম্যাচ ড্র হওয়া ততক্ষণে নিশ্চিত হয়েই গেছে।
সেঞ্চুরির সঙ্গে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ ঢাকার তাইবুর।
রংপুর ২য় ইনিংস: ৬২ ওভারে ১৪৯ (আগের দিন ৬/৩) (ইকবাল ২০, হাশিম ১৫, আকবর ৬৪, রিজওয়ান ২৭, আলাউদ্দিন ০, মাহমুদুল ০, মেহেদি ১৩, স্বাধীন ৭; রিপন ১০-৩-২৯-১, আরিফ ১৮-৩-৩৫-৩, এনামুল ৯-৬-১৫-২, সুমন ৭-১-১২-১, তাইবুর ১৩-০-৩৬-২, আমিনুল ২-০-৬-০, মার্শাল ২-০-৯-০, আনিসুল ১-০-৭-০)।
ঢাকা বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২০৬) ৪.১ ওভারে ৯/০
রংপুরের বিপক্ষে ম্যান অব দা ম্যাচ ঢাকার তাইবুর রহমান।
অনুমিত ফলাফলই হয়েছে চট্টগ্রামে। প্রথম সেশনে যদিও একটু নাটকীয় ছড়িয়েছিল। তবে সাব্বিরের ব্যাটে বিপদ কাটিয়ে ওঠে রাজশাহী।
২ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করে রাজশাহী। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ ও প্রিতম কুমারের জুটি থামে ৬৫ রানে। ৪৭ রানে ফেরেন নাঈম, ৩৭ রানে প্রিতম। দুটি উইকেটই নেন হাসান মুরাদ।
এরপর এসএম মেহেরবকে যখন দ্রুতই আউট করলেন মাহমুদুল হাসান জয়, রাজশাহীর রান তখন ৫ উইকেটে ১১৬। এগিয়ে তারা মাত্র ৮৭ রানে।
তবে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে উইকেট আঁকড়ে রাখেন সাব্বির। ১৪১ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১১২ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। পরে লোয়ার অর্ডাররাও লড়াই করে ড্র নিশ্চিত করেন।
সেঞ্চুরি করে ও দুই ইনিংসে দুটি উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা চট্টগ্রামের জয়।
রাজশাহী ২য় ইনিংস: ৮৯ ওভারে ২২৪/৮ (আগের দিন ৪৬/২) (নাঈম ৪৭, প্রিতম ৩৭, সাব্বির ৫১, মেহেরব ২, শাকির ২৭, সানমাজুল ১৮, নিহাদ ১৫*, ওয়ালিদ ১৭*; আশিক ১১-১-৩৫-১, আশরাফুল ৩২-৫-৮৩-৩, ইফরান ৫-১-১১-০, মুরাদ ৩০-৫-৬০-৩, ফরহাদ ৩-০-৯-০, জয় ৫-১-১১-১, শামীম ১-০-৪-০, সাদিকুর ২-০-৯-০)।
৮৬ রানে দিন শুরু করা মাহফিজুল অনায়াসেই পাড়ি দেন বাকি পথটুকু। নাঈমের অফ স্পিনে আলতো করে খেলে দ্রুতগতির সিঙ্গল নিয়ে শতরানে পৌঁছান ১৯৫ বলে।
তবে ইনিংসটিকে আর বড় করতে পারেননি তিনি। ওই ওভারেই নাঈমের বলে সুইপ করার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হয়ে যান ঠিক ১০০ রানেই।
এরপর আরেকটি জুটি গড়েন আরিফুল ইসলাম ও আব্দুল মজিদ। তবে দ্রুত ব্যাট করে ইনিংস ঘোষণা করে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরানোর তাড়া দেখা যায়নি তাদের ব্যাটে।
১২৯ বলে ৭২ রান করে নাঈমের শিকার হন আরিফুল। আল আমিনকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১০৬ রান যোগ করেন মজিদ। ৪১ রানে রান আউট হন আল আমিন।
ড্রয়ের আগে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মজিদ। তার সেঞ্চুরির জন্যই মূলত খেলা চলছিল। কিন্তু নাঈমকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তিনি ৮৭ রানে।
ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এই অফ স্পিনার। ওই ওভার শেষেই ম্যাচের সমাপ্তি টেনে দেওয়া হয়।
৭০ ও ১০০ রানের দুটি ইনিংসে ম্যাচের সেরা জন মাহফিজুল।
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: ১১৭ ওভারে ৩৭২/৬ (আগের দিন ১৪৮/১) (মাহফিজুল ১০০, খালিদ ৫৭, রকিবুল ২, আরিফুল ৭২, মজিদ ৮৭, আল আমিন ৪১, রিজান ২*, ফাহিম ১*; তারেক ১৩-২-৫০-০, নাঈম ৪০-৪-১১৯-৫, নাবিল ৩৪-৩-১০০-০, গালিব ৭-০-২৩-০, তোফায়েল ৯-৪-২০-০, অনিক ১২-৪-৩৮-০, রিহাদ ১-০-১৭-০)।
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল