এর আগ পর্যন্ত ওই গ্রামের শিশুদের স্কুলে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার এক বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হতো।
‘ফুয়াও ল্যাডার’ নামের এই লিফটটি চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা এখন মাত্র ৩০ মিনিটেই নিরাপদে তাদের স্কুলে পৌঁছে যেতে পারছে। ছবি: অডিটি সেন্ট্রাল
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
চীনের ইউনান প্রদেশের নিঝু নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম এলাকার শিশুদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করতে ২৮৮ মিটার বা প্রায় ৯৪৫ ফুট উঁচু একটি দানবীয় লিফট চালু করা হয়েছে।
‘ফুয়াও ল্যাডার’ নামের এই লিফটটি চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা এখন মাত্র ৩০ মিনিটেই নিরাপদে তাদের স্কুলে পৌঁছে যেতে পারছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২২ সালে ওই এলাকার ‘নিঝুহে’ গ্রামের শিশুদের সুবিধার্থে ২৬৮ মিটার উঁচু ‘ছিংইউন ল্যাডার’ নামের একটি পাহাড়ি লিফট তৈরি করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
তার আগ পর্যন্ত প্রতি তিন সপ্তাহ পর পর ওই গ্রামের শিশুদের ‘গুয়ানঝাই গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ পৌঁছাতে তিন ঘণ্টার এক বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হতো। কিন্তু খাড়া পাহাড়ের গায়ে তৈরি প্রথম লিফটটি চালুর পর শিক্ষার্থীরা মাত্র কয়েক মিনিটেই এ পথ পাড়ি দিতে পারতো।
তবে দ্রুতই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে লিফটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় প্রতিদিন পর্যটকদের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে শুরু করে।
শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে লিফটে ওঠার সুযোগ পেলেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো।
শিক্ষার্থীদের এই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে আগের লিফটটির ঠিক পাশেই নতুন এই ‘ফুয়াও ল্যাডার’ নির্মাণ করা হয়।
ক্যানিয়নের তলদেশ থেকে ২৮৮ মিটার উঁচুতে নির্মিত এই প্যানোরামিক বা দৃশ্যমান লিফটটি বিশ্বের অন্যতম চিত্তাকর্ষক উন্মুক্ত লিফট।
নতুন লিফটটি আগেরটির চেয়ে বেশি প্রশস্ত, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং এর শ্যাফটের উচ্চতা আগের চেয়ে ২০ মিটার বেশি।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা প্রথমে শাটল বাস, তারপর লিফট এবং শেষে কেবল কারে চড়ে মাত্র ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ে পৌঁছে যায়।
আগে যেখানে স্কুলে যাওয়া-আসা মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রায় ছয় ঘণ্টা বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ ভাঙতে হতো, এখন তা এক অবিশ্বাস্য সহজযাত্রায় রূপ নিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে এক শিক্ষার্থী বলেছে, “আগে আমাকে নিজের জিনিসপত্র কাঁধে নিয়ে তিন ঘণ্টা পাহাড়ি পথে হেঁটে স্কুলে যেতে হতো। একটু অসাবধান হলেই নিচে পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকত।”
বিশ্বের অন্যতম গভীর এই গিরিখাতে পাশাপাশি তৈরি দুটি উন্মুক্ত লিফট চালুর পর শিশুদের জীবনের অন্যতম ক্লান্তিকর ও বিপজ্জনক এই পথটি এখন রোমাঞ্চকর এক যাত্রায় রূপ নিয়েছে।
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমীকরণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আমাদের কালের কাঙাল হরিনাথ