সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টার তথ্য পেয়েছে দুদক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৭১টি হিসাব ও এফডিআরের থাকা ১৫৫ কোটি এক লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম বলেন, “কাজী জাফর উল্যাহর নামে ৪৪ হিসাবে ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকা, তার স্ত্রী নীলুফা উল্যাহর নামে ২৪ হিসাবে থাকা ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে ৩৩ হিসাবে থাকা ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা, ছোট ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে ২৮ হিসাবে থাকা ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং মেয়ে আনুশকা মেহরীন জাফরের নামে ৪২ হিসাবে থাকা ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৫০৫ টাকা রয়েছে।”
দুদকের পক্ষে এ দিন কমিশনের সহকারী পরিচালক এসব ব্যাংক ও এফডিআর হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কাজী জাফর উল্যাহর পরিবারের সদস্যদের নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান ও বনানী শাখায় বিপুল পরিমাণ এফডিআর, সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব ও লকার রয়েছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাজী জাফর উল্যাহর নামে মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে।
নীলুফার জাফর উল্যাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবে তার ডাবল লকার সুবিধাও রয়েছে।
কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবে তার নামে লকার সুবিধা রয়েছে।
কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবেও লকার সুবিধা রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আনুশকা মেহরীন জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে।
অনুসন্ধানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে বলেছে দুদক। এসব সম্পত্তি মামলা বা অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে হাতবদল হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এসব সম্পত্তি অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।
গুলশানের বাসা থেকে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: আমাদের কালের কাঙাল হরিনাথ
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: কঠোর সম্পাদকের আড়ালে স্নেহশীল অভিভাবক
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: এই ‘যাওয়া তো নয় যাওয়া’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: শিল্পানুরাগী এক অনন্য আতিথেয়তার মানুষ