1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়িতে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অনুমোদনহীন তথ্য প্রচারে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে প্রকাশিত নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ নির্দেশ কার্যকরে পুলিশের সাইবার টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ নোটিশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজের ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা এমন কড়াকড়িকে বাক্‌স্বাধীনতাকে গলা চেপে ধরার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

নোটিশে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার প্রতিরোধে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ও অন্যান্য পরিচিত চিহ্ন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম, পেজ, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা যাবে না। অনুমোদনহীন পেজ, অ্যাকাউন্ট থেকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অনুমোদনহীন তথ্য প্রচার করা হলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূর্বানুমতি ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বোঝায় এমন কোনো শব্দ সামাজিক কিংবা অন্য কোনো যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না।

জানতে চাইলে ছাত্রশিবির ববি শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জাকারিয়া বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ, মতপ্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগের পরিসরকে নিয়ন্ত্রণ করার যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মুক্তচিন্তা, যুক্তি, মতবিনিময় ও জ্ঞানচর্চার জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহারে নীতিমালার আড়ালে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মতপ্রকাশ, সমালোচনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কথা বলার অধিকার সীমিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয় বা নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হোক।’

জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘আমরা বাক্‌স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু ববি প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে যে নোটিশ জারি করেছে, তাতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গলা চেপে ধরা হয়েছে। এর ফলে আমাদের কথা বলার জায়গা সংকুচিত করা হয়েছে।’

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ববি শাখার সাধারণ সম্পাদক এডিসন বৈদ্য বলেন, অপতথ্য ও সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক মতপ্রকাশ আলাদা বিষয়। অপতথ্য রোধের নামে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করা হাসিনা আমলের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতোই একটা নিবর্তনমূলক বিধিনিষেধ। শিক্ষার্থীরা যেন নিঃসংকোচে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, সেই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দুজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা ববি প্রশাসনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাক্‌স্বাধীনতার পরিপন্থী কাজ।

তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে যে নোটিশ জারি করেছে, সেটি নির্ভর করবে প্রশাসন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, আইনের অপব্যবহার না হোক এবং বাক্‌স্বাধীনতার পরিপন্থী কিছু না করুক, এটা ছাত্রদল আশা করে।

এ ব্যাপারে ববির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির সাংবাদিকদের বলেন, সার্বিক কল্যাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ