1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে ২৮ শিক্ষার্থী হাসপাতালে প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রাইভেট কারে তুলে দেন এসআই প্রবীর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন প্রযুক্তি সেবার উন্নয়ন: কার্ড সেবা ছয় দিন বন্ধের জটিলতায় ৩১ ব্যাংক ব্যাংকে সিএসআর খাতে ব্যয় কমেছে ২১% চাক্তাইয়ের ৮ গুদামে মিলল ‘অবৈধ’ মজুত ১৮০০ বস্তা সার মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাসের মাথায় বাবাকেও গুলি করে হত্যা খুলনা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‘ছোটবেলা থেকে আপনার সব সিনেমা দেখেছি, এখন পুরো টাকা ফেরত চাই’

এক ক্লিকেই ৬৪ জেলার ভ্রমণ হিসাব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ Time View

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশকে কাছ থেকে চেনার অন্যতম চমৎকার মাধ্যম ভ্রমণ। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর কিংবা সবুজ চরাঞ্চল আট বিভাগে ছড়িয়ে থাকা ৬৪ জেলার প্রতিটিতেই রয়েছে আলাদা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য। তবে এতদিনে ঘুরে দেখা জেলার সংখ্যা কত, সে হিসাব অনেকেরই ঠিকঠাক মনে থাকে না।

এবার কয়েকটি ক্লিকেই জানা যাচ্ছে, ৬৪ জেলার মধ্যে কে কতটি ঘুরে দেখেছেন। নিজের দেখা জেলাগুলো রঙিন মানচিত্রে তুলে ধরে সংরক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করা যাচ্ছে। এমন একটি ডিজিটাল ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছেন চট্টগ্রামের যুবক মো. সাব্বির হোসাইন।

সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের দেখা জেলার মানচিত্র তৈরি করে শেয়ার করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। ভ্রমণপ্রেমীরা নিজেদের ঘোরা জেলার হিসাব তুলে ধরছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে একদিকে ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখা যাচ্ছে, অন্যদিকে এখনো যাওয়া হয়নি এমন জেলাগুলো ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও করা যাচ্ছে।

এই ডিজিটাল ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করেছেন ২৭ বছর বয়সী সাব্বির হোসাইন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের গলিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। নিজেও ভ্রমণপ্রেমী হওয়ায় নতুন নতুন জেলা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই এই ওয়েব অ্যাপ তৈরির ভাবনা আসে তার।

সাব্বির হোসাইন কালবেলাকে বলেন, নতুন কোনো জেলা ভ্রমণ করে আসার পর তিনি ম্যানুয়ালি নিজের ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করতেন। কোন কোন জেলা ঘুরেছেন, সেটি প্রতিবার আলাদাভাবে হিসাব করতে হতো। সেখান থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির চিন্তা আসে, যেখানে শুধু জেলা নির্বাচন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে ভ্রমণের ম্যাপ।

প্রথমে নিজের প্রয়োজনেই তৈরি করলেও পরে একই সুবিধা অন্য ভ্রমণপ্রেমীদেরও কাজে লাগতে পারে মনে করেন সাব্বির। সেই চিন্তা থেকেই ওয়েব অ্যাপটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন তিনি।

তিনি জানান, নিজের ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করতে প্রথমে যেতে হবে Unseen Bangladesh ওয়েবসাইটে। সেখানে ‘আপনার কোথায় ঘোরা হয়েছে’ অপশনে গিয়ে ভ্রমণ করা জেলাগুলো নির্বাচন করতে হবে।

বাংলাদেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার তালিকা থেকে একটি একটি করে জেলা বেছে নেওয়া যায়। চাইলে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকেও সরাসরি নির্দিষ্ট জেলায় ক্লিক করা যাবে। আবার জেলার নাম লিখে সার্চ করেও পছন্দের জেলা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যতগুলো জেলা নির্বাচন করা হবে, ম্যাপে তার হিসাবও সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে। যেমন ৬৪ জেলার মধ্যে ১৫টি জেলা ঘুরে থাকলে দেখাবে ১৫/৬৪। একসঙ্গে সব জেলা নির্বাচন করতে রয়েছে ‘সব বাছাই করুন’ অপশন। আগের হিসাব মুছে নতুন করে শুরু করতে রয়েছে ‘সব মুছুন’ সুবিধা।

অ্যাপটির সুবিধা শুধু ঘোরা জেলার সংখ্যা দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো জেলা নির্বাচন করলে সেই জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, দর্শনীয় স্থান, বিখ্যাত খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পণ্যের তথ্য পাওয়া যাবে।

নির্দিষ্ট কোনো দর্শনীয় স্থানে ক্লিক করলে ওই স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি গুগল ম্যাপের লোকেশনও পাওয়া যাবে। ফলে ভ্রমণের আগে একটি জেলার কোথায় কী রয়েছে, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া সম্ভব হবে একই প্ল্যাটফর্‌ম থেকে।

অ্যাপটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই ব্যবহার করা যায়। ফলে দেশি-বিদেশি ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দেখতে পারবেন।

ম্যাপকে ব্যক্তিগত করে তুলতে রয়েছে পাঁচটি থিম। পছন্দের থিম নির্বাচন করে ম্যাপের চেহারা বদলে নেওয়া যাবে। এরপর নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করা সম্ভব। নাম দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নাম না দিলে সেখানে ‘আমার বাংলাদেশ’ লেখা থাকবে।

সবকিছু সাজানো শেষে ‘আপনার ম্যাপ ডাউনলোড করুন’ অপশনে ক্লিক করলেই ম্যাপটি PNG, JPG অথবা PDF ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা যাবে। পরে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি শেয়ার করা যাবে।

শুধু ঘুরে আসা জেলার হিসাব নয়, ভবিষ্যৎ ভ্রমণের পরিকল্পনাও তৈরি করা যাবে অ্যাপটিতে। এর জন্য রয়েছে ‘ট্রিপ প্ল্যান’ অপশন।

সাব্বির বলেন, যে জেলাগুলো ঘুরতে চান, সেগুলো নির্বাচন করলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই গন্তব্যগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করবে। একসঙ্গে চার-পাঁচটি জেলা নির্বাচন করলেও পরিকল্পনাটি সাজিয়ে দেওয়া যাবে।

কোন জায়গায় আগে যেতে হবে, এরপর কোথায় যাওয়া ভালো, কোথায় রাতে থাকা যেতে পারে এসব তথ্যের পাশাপাশি গুগল ম্যাপের লোকেশনও যুক্ত থাকবে। নির্দিষ্ট হোটেলের সম্ভাব্য ভাড়ার তথ্যও পরিকল্পনায় যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সাব্বির বলেন, একজন ভ্রমণপ্রেমী শুধু সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি কয়েকটি জেলা ঘুরবেন। এরপর বাকি কাজ এআই কয়েক মিনিটের মধ্যে করে দিতে পারবে। ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে যাত্রা শুরু করার মাঝের সময় ও তথ্য সংগ্রহের ঝামেলা কমিয়ে দেওয়াই এই সুবিধার লক্ষ্য।

পুরো ওয়েব অ্যাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করেছেন সাব্বির। কোডিংয়ের জন্য ব্যবহার করেছেন ক্লড কোড। তার দাবি, পুরো কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিন সময় লেগেছে।

তবে শুধু এআইয়ের তৈরি ফলাফল ব্যবহার করেননি তিনি। নিজের পছন্দমতো ডিজাইন ও বিভিন্ন ফিচার সাজাতে গিয়ে সময় বেশি লেগেছে। সাব্বির নিজেও অ্যাপ ডিজাইনের সঙ্গে কাজ করেন। এআইয়ের তৈরি কোনো নকশা বা ফলাফল পছন্দ না হলে সেগুলো নিজের মতো করে পরিবর্তন ও কাস্টমাইজ করেছেন।

সাব্বির বলেন, এ ধরনের একটি অ্যাপ আরও কম সময়েও তৈরি করা সম্ভব। তবে নিজের মতো করে সাজাতে গিয়ে সময় লেগেছে। এআই থেকে প্রয়োজনীয় আউটপুট বের করার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে।

শুরুতে এতটা সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল না সাব্বিরের। নিজের প্রয়োজন থেকেই অ্যাপটি তৈরি করেছিলেন। পরে অন্যদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে মনে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

এরপর ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে। বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও ম্যাপটি ব্যবহার করছেন, প্রশংসা করছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামত দিচ্ছেন। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে অ্যাপটি আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে সাব্বিরের।

ভবিষ্যতে ওয়েব অ্যাপটিতে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা নেই সাব্বিরের। ব্যবহারকারীরা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি ব্যবহার করতে পারেন, সেটিই তার অগ্রাধিকার।

সাব্বির বলেন, ‘এটা নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা হচ্ছে, আমি এখানে কোনো ধরনের অ্যাড দেব না। অনেকে মনে করে, এই অ্যাপটা অনেক ভালো চলতেছে, এখানে গুগল অ্যাড দিয়ে মনে হয় অনেক টাকা ইনকাম করে ফেলব। আমার এই ধরনের কোনো প্ল্যানিং নাই। আমি এখানে সিংগেল কোনো অ্যাড দেব না। মানুষ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সুন্দরভাবে এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারে, সেটি হচ্ছে আমার মূল চাহিদা।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উদ্যোগটি সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সাব্বির বলেন, ‘আমার যে চিন্তা বা আগ্রহ, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে বা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যদি কোনোভাবে এটাকে ইন্টিগ্রেট করা যায়, তাহলে আমি মনে করি, আমার এই অ্যাপটি কিন্তু বাংলা এবং ইংলিশ উভয় ল্যাংগুয়েজে আপনি দেখতে পারবেন। আমি মনে করি, সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পে এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের লোকাল পর্যটন শিল্প এবং টুরিস্ট যারা বাইরে থেকে আসবে, তারাও আমাদের দেশের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা স্পটগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, যদি কোনোভাবে এই জিনিসটা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে পৌঁছায়, সে ক্ষেত্রে আশা করি আমি আমার শ্রম এবং আমার মেধা দিয়ে এই জিনিসটাকে আরও বেটার করব নিজের দেশের স্বার্থে, নিজের দেশের পর্যটন শিল্পের স্বার্থে। যেহেতু আমি নিজে ট্রাভেল করতে পছন্দ করি, আমার মনে হয় এটি অনেক ভালো হবে।’

নিজের ভ্রমণের হিসাব রাখার প্রয়োজন থেকে শুরু হয়েছিল উদ্যোগটি। এখন সেটি অন্য ভ্রমণপ্রেমীদেরও বাংলাদেশের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সাজাতে সহায়তা করছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কে কতটা বাংলাদেশ ঘুরে দেখেছেন, সেই হিসাব যেমন কয়েকটি ক্লিকেই দেখা যাচ্ছে, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা যাচ্ছে পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনাও। সূত্র : কালবেলা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ