1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াতের আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা এ বছর শান্তিতে নোবেল পাচ্ছেন না ট্রাম্প, তবে বিজয়ী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবেন—ধারণা বিশেষজ্ঞদের ফেরদৌসীর পদত্যাগ বিএনপি নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিচ্ছে নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ? উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয় কলেরা সংক্রমণে বাংলাদেশ সপ্তম, আক্রান্তদের অর্ধেকের বয়স ৫ বছরের কম ছুটির দিনে এক কাপেই কফি উদযাপন এনসিটির পর এবার সিসিটিও যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে, দায়িত্ব পাচ্ছে সৌদির আরএসজিটিআই মেসিকেই সর্বকালের সেরা মানেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর আইনে ছাড় দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

হাতে সময় নেই বললেই চলে, অথচ সামনে কঠিন অস্ট্রেলিয়া সফর! দলে একের পর এক পরিবর্তনের পর কতটা বদলাবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল?

২২ সেপ্টেম্বর জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে নারী ক্রিকেটের তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে ব্যাটিং করছেন বাংলাদেশের শারমিন আক্তার। ছবি: বিসিবি

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমস থেকে কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরেছে। ২০১০ সালে অভিষেকেই রুপা, এরপরে ২০১৪ সালে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ সালেও ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া দলটি ২০২৬-এসে তিনটা ম্যাচের মধ্যে একটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাকি দুটিতেই হারের মুখোমুখি হয়। এই ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পালা।

পরিবর্তন হয়েছে প্রধান কোচ, ম্যানেজার, এমনকি ব্যাটিং কোচও আর থাকছেন না। সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের দলেও পরিবর্তন এসেছে। এই সব নতুনদের নিয়েই বাংলাদেশ দল কয়েকদিনের ব্যবধানে ৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে।

অর্থাৎ সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে খুব দ্রুত। আবার এই পরিবর্তিত নতুনদের জন্য অনুশীলনের সুযোগও নেই বললে চলে। প্রশ্ন আসাটা খুবই স্বাভাবিক যে, দ্রুত এই পরিবর্তনগুলোর আসল ফলাফল কতটা পাওয়া যাবে? আর যে সংকট নিয়ে এত আলোচনা, তা কি শুধু মানুষ বদলেই সমাধান হয়ে যাবে?

পরিবর্তনের তালিকাটা আসলে বেশ বড়। প্রধান কোচের চেয়ারে সারোয়ার ইমরানের জায়গায় এসেছেন ডেভিড হেম্প। যাত্রাপথের জটিলতার কারণে তিনি বাংলাদেশে না এসে ৩ অক্টোবর সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। অর্থাৎ নতুন কোচের হাতে দলকে কাছ থেকে দেখার, নিজের পরিকল্পনা বোঝানোর এবং প্রয়োজনে নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সময় বলতে গেলে থাকছেই না। কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এসেছে। ব্যাটিং কোচ নাছিরউদ্দিন ফারুক সজিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় অবশ্য আলাদা কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নতুন প্রধান কোচ হেম্পই এখন ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্বেও থাকবেন। সাবেক ক্রিকেটার গোলাম মর্তুজা দায়িত্ব নিয়েছেন ফিল্ডিং কোচ হিসেবে।

টিম ম্যানেজমেন্টেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এস এম গোলাম ফাইয়াজের জায়গায় অস্ট্রেলিয়া সফরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন বুলবুল বাশার।

অস্ট্রেলিয়াগামী দল নির্বাচনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ১৬ সদস্যের দলে ২০ মাস পর ফিরেছেন মুর্শিদা খাতুন। দলে জায়গা পেয়েছেন দিলারা আক্তার আর দিশা বিশ্বাস। আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দিশার সঙ্গে প্রথমবার ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সী পেসার হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি।

নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তিনিই অধিনায়ক থাকছেন।

বিষয়টা এমন নয় যে, পরিবর্তনগুলো অযৌক্তিক। হেম্পের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হলো, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোর বাইরে থেকে আসা কেউ নন। তিনি ২০২৩ সাল থেকে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি গত বছর ও চলতি বছরও দুটি টুর্নামেন্টে নারী দলের সঙ্গে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে নতুন প্রধান কোচ হলেও বাংলাদেশ দলের পরিবেশ তার কাছে পুরোটা অচেনা নয়।

আবার দল নির্বাচনেও কিছু পরিবর্তনের পেছনে পারফরম্যান্সের বিষয়ে যুক্তি আছে। মুর্শিদা খাতুন ২০ মাসের বেশি সময় পর ফিরেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজরে এসেছে। দিশা বিশ্বাস ইমার্জিং দলের হয়ে খেলেছেন, তার পারফরম্যান্সও ভালো ছিল।

অর্থাৎ, বলা যায়, পরিবর্তনগুলোর প্রতিটির কোনো না কোনো যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু এই পরিবর্তনে কি সাম্প্রতিক সংকটের সমাধান হবে?

প্রথমত: কোচ হেম্প সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় যাবেন ৩ অক্টোবর এবং ৬ অক্টোবর কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে দল, আর প্রথম ওয়ানডে হবে ৯ অক্টোবর। অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা বা অনুশীলনে প্রয়োগ করার সময় খুব সীমিত।

দ্বিতীয়ত: জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় থাকা মানসম্মত বিকল্প খেলোয়াড়ের সংখ্যা আসলে কতজন? একদিকে ২০ মাস পর মুর্শিদা খাতুন ফিরছেন, আর অন্যদিকে দিশা বিশ্বাস ও হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। এটা কি নতুন প্রতিভা উঠে আসার একটি স্বাভাবিক চিত্র? নাকি খেলোয়াড়ের সংখ্যা এখনো এতটাই সীমিত যে দীর্ঘদিন বাইরে থাকা একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও আবার ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে? দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড় তৈরির প্রশ্নটি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তৃতীয়ত: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দলে আছেন বিশ্ব ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত একাধিক খেলোয়াড়। প্রশ্নটা হলো: একজন কোচ, একজন ম্যানেজার কিংবা কয়েকজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তনে কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই বড় ব্যবধান কমানো যায়? নাকি সেই ব্যবধান কমাতে প্রয়োজন হয় দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি, খেলোয়াড় তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগ?

চতুর্থত: নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট, স্কুল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, পর্যাপ্ত ম্যাচের আয়োজন, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা—এসবের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া, কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা ছাড়া শুধু জাতীয় দলের মানুষ বদলালেই কি সংকটের সমাধান হবে?

প্রকৃতপক্ষে, সত্যটা হলো শুধুমাত্র ফলাফল দিয়ে এই সফরের মূল্যায়ন করা কখনোই ঠিক হবে না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরকে হারানোর প্রত্যাশা আর বাংলাদেশ দলের বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান, সেটাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগই নেই। তাই সিরিজে পরাজয় মানে আবারও তাদের ব্যর্থ দল বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করার চেয়ে বরং সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে কোনো ইতিবাচকতা দেখা যাচ্ছে কি না—সেটা দেখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়ান গেমসের পর থেকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা উঠেছে, সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। যেমন: ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনায় পরিবর্তন হয়েছে কি না, পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার গড় কেমন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত কিংবা চাপের সময় ম্যাচ সামলানো প্রভৃতি পরিস্থিতিতে নতুন কিছু যোগ হলো কি না—এগুলোর দিকে নজর দেওয়াটাই আসল।

সময় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নও তুলতে হবে

একটি সিরিজ দিয়েই নতুন কোচের বা খেলোয়াড়দের সাফল্য-ব্যর্থতার বিচার করা উচিত নয়। যেকোনো পরিবর্তনের ফলাফল পেতে সময় লাগবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময় দেওয়ার অর্থ এটাও না যে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, কিংবা কোনো প্রশ্নও করা যাবে না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে দলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে হবে। অর্থাৎ ছয় মাস পর পরিবর্তনের প্রভাবে কী বদলেছে—সেই হিসাবটাও রাখতে হবে।

তাই অস্ট্রেলিয়া সফর সাফল্য-ব্যর্থতা পরিমাপের একমাত্র মাপকাঠি নয়। খেলার ফলাফল যেটাই হোক না কেন আমাদের দেখতে হবে: আমরা কি শুধু মানুষই পরিবর্তন করেছি, নাকি চিন্তা কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে? লক্ষ্য রাখতে হবে, পরিবর্তনগুলো কি বৃহত্তর সংস্কারের দিকে যাচ্ছে, নাকি অতীতের মতোই শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ থাকছে? কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী কোচ-খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু নারী ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তনটাই মুখ্য।

নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ?

হকার উচ্ছেদ কি ঢাকার ‘ভদ্রলোকীকরণ’ প্রক্রিয়ার অংশ?

ভাতের নাকি অনুভূতির অভাব: গন্তব্য কোথায়?

ভাঙচুর, দখল: ভাবমূর্তি ও জনআস্থার সংকট

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ