বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি বরাবরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন অর্জন এবং জনগণের পক্ষে অবস্থানকারী দল। এ কারণেই দলটি ক্ষমতায় এলেই একটি অপশক্তি এর বিরোধিতা শুরু করে।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সারা দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নৈরাজ্য সৃষ্টি, গুপ্তদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল আলম মজনু।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শ্রমজীবী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। একটি অপশক্তি এ দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না। তারা জনগণের শান্তি ও সরকারের উন্নয়ন প্রয়াস নস্যাৎ করতে নানা চক্রান্ত চালাচ্ছে। দেশের ও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এ অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরি।
শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষ গায়ের ঘাম ঝরিয়ে, কঠোর পরিশ্রম করে, হালাল উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমরা কারও কাছে হাত পাতিনি। আমরা পরিশ্রমী মানুষ। মানুষের নিত্যব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, পোশাক, কলম, কাগজ, পথঘাট ও বাসস্থান সবই শ্রমজীবী মানুষের তৈরি।
সমাবেশে শ্রমজীবী মানুষের বিশাল উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি চারণ করে বলেন, 'শহীদ জিয়া বলতেন- আমিও একজন শ্রমিক, আর এই পরিচয়ে আমি গর্ববোধ করি।'
সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুপ্ত হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও বোমাবাজিসহ সব অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, '৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে মানুষ অকাতরে ত্যাগ স্বীকার করেছে। বিশেষ করে '২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে এককভাবে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ। সেই অর্জিত গণতন্ত্র ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগকে যারা নস্যাৎ করতে চায়, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।
আন্দোলন-সংগ্রামের শরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আল্লাহর ওয়াস্তে এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাদের প্রতিপক্ষ কোনো সুযোগ পায়।'
দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বিএনপি নেতা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে যারা কাজ করেছি তারা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি যে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে আমরা কেউ যুক্ত নই। কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'যে সত্যিকারের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ, দখলদার, সন্ত্রাসী হতে পারে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান ও বিতাড়িত করেছে, তারা দেশের শান্তি ও অগ্রগতিতে বাধা দিতে চক্রান্ত চালাবে। তবে দেশের মানুষ নেতা তারেক রহমানকে দেশসেবার যে সুযোগ দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে তিনি সফল হবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু তাকে সফল হওয়ার পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে জনগণ তাদের পছন্দ করবে না।'
শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানও বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদন ও উন্নয়নের মূল শক্তি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষই হবে এই অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় সহযোগী।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.