চলতি বছরে ট্রেন্ট ব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট চলার সময়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যেমেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) এবং পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ক্রিকেটার।
এখন পর্যন্ত তিনি এই দুটি লিগের কোনোটিতেই খেলেননি। বিগ ব্যাশ লিগের আসন্ন মৌসুমের জন্য অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এরই মধ্যে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে। স্টোকসের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ শিগগিরিই শেষ হতে চললেও, বিভিন্ন লিগে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) বড় ভূমিকা থাকবে।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমএলসি বা পিএসএল-এ খেলার জন্য স্টোকসকে অনাপত্তি পত্র বা এনওসি দিতে ইসিবি সম্ভবত অস্বীকৃতি জানাবে। জানা গেছে, আইপিএলে এই ক্রিকেটারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের পথে ইসিবি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন কোনো লিগে খেলার জন্য বোর্ড সাধারণত দেশীয় খেলোয়াড়দের এনওসি দেয় না।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয়। আইপিএল মৌসুমের শেষের দিকে ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট’ শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত চলে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য হান্ড্রেড’, যা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলে। এছাড়া কাউন্টি মৌসুম পুনরায় শুরু হওয়া এবং সেপ্টেম্বরের শেষে তা শেষ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ঘরোয়া ওয়ানডে ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়।
বেন স্টোকস বর্তমানে ডারহামের হয়ে খেলছেন এবং এ বছর চারটি কাউন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। সাত ইনিংসে ৪৬-এর বেশি গড়ে তিনি ২৭৭ রান করেছেন এবং তিনটি হাফ-সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন। বল হাতে ইংল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়ক ১৯টি উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে দুবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে এবং ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৯৪ রানে ৬ উইকেট নেওয়া তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।
২০১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে স্টোকস তার আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন। রয়্যালসের হয়ে চারটি মৌসুম খেলার পর ২০২৩ সালের আইপিএল-এর জন্য তিনি চেন্নাই সুপার কিংসে যান, যেখানে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন।
দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আইপিএল-এর সাথে সময়সূচির সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) আবারও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়, যা ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মৌসুমের সাথে সাংঘর্ষিক।