২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের হৃদয়ভাঙা কষ্ট পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চান আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। তাদের লক্ষ্য, মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখা। দলটির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এমনটাই জানিয়েছেন।
গত জুন-জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের সামনে হাতছানি ছিল ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি মেসিদের। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
এই নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ চারবার রানার্সআপ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত কীর্তি ছুঁয়েছে আলবিসেলেস্তেরা (১৯৩০, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২৬)। এর মাধ্যমে তারা জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে (১৯৬৬, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ২০০২)।
তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মনে করেন, জাতীয় দলের সতীর্থ ও কিংবদন্তি মেসিকে বিদায় জানানোর উপলক্ষ সামনে রেখে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ওই ক্ষত ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। ইএসপিএনের কাছে তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট জমা হয়ে আছে। সম্ভব হলে আমরা এটা মনে রাখতে চাই না। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা যে দারুণ প্রচেষ্টা চালিয়েছি, সেটিও তুলে ধরা উচিত। নিঃসন্দেহে আমরা দারুণ একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছি। তবে ফাইনালে হারার কষ্টটা আমাদের সবার মধ্যেই আছে।’
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দুই দিন পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। এর এক মাসের বেশি সময়ের ব্যবধানে গত ৩১ আগস্ট তিনি প্রকাশ্যে দেন বিদায়ের ঘোষণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘ফাইনালের পর এতদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…।’
আগামী ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন মেসি। খেলাটি হবে বুয়েন্স আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে। সেখানে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরাও একত্রিত হবেন। মেসির বিদায়ের ক্ষণ উদযাপন করার বার্তা দিয়ে লিসান্দ্রো বলেন, ‘এখন আমরা দেশে ফিরে এসেছি। আর আমরা সময়টা উপভোগ করতে যাচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। দুটি পরিসংখ্যানই আর্জেন্টিনার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। গত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে তিনি জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ গোলটি পেয়েছিলেন।