এর মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের দায় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার উপর নির্ভরতা কমে যাবে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ‘ভোস্ট্রো’ হিসাব (এমন ব্যাংক হিসাব, যা দেশীয় ব্যাংকে বিদেশি কোনো ব্যাংকের নামে খোলা হয়) লেনদেনে টাকা ব্যবহারের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক এ সুবিধা দিতে পারবে আমদানিকারকদের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এক সার্কুলারে বলেছে, বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট টাকা (ভোস্ট্রো) হিসাব ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তি টাকায় সম্পন্ন করার জন্য একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চালু হয়েছে।
বর্তমানে এডি ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকের নামে ‘টাকা ভোস্ট্রো’ হিসাব খুলতে পারে।
নতুন সিদ্ধান্তে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ জমা না নিয়েও, বাংলাদেশ থেকে আমদানির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থের ভিত্তিতে ‘টাকা ভোস্ট্রো’ হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হল। এসব হিসাবে জমাকৃত টাকা মূলত বাংলাদেশের বৈদেশিক দায় পরিশোধে কাজে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় এলসি (ঋণপত্র), চুক্তি ও ইনভয়েস বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা যাবে। পরবর্তীতে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য টাকা হিসেবে রূপান্তর করে ‘ভোস্ট্রো হিসাবের’ মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ‘টাকা ভোস্ট্রো’ হিসাবে জমা হবে। অন্যদিকে, রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব হিসাব থেকে রপ্তানিকারকের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এর মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের দায় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার উপর নির্ভরতা কমে যাবে। অনেক সময়ে উদ্যোক্তার কাছে টাকা আছে, কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে দেরি হচ্ছে। তখন তিনি টাকা জমা দিতে পারবেন। পরবর্তীতে এডি ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তিতে বা পাওনাদারের চাহিদার আলোকে বৈদেশিক দায় শোধ করে দেবে।”
নতুন সিদ্ধান্তে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।
টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। এসব বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি এবং ইডিএফ ঋণ পরিশোধসহ বৈদেশিক মুদ্রা দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।
টাকা ভোস্ট্রো হিসাবে জমাকৃত অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব অর্থ নিবাসী প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়া যাবে। এর স্থিতি বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শাহরিয়ার কবির: রাজনৈতিক পরিচয়ের ফৌজদারি পুনর্লিখন
আইফোন, ভোগবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়: অপ্রতিমের হত্যাকারী কে?
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার ব্যর্থতা
জার্মান রাজনীতিতে অতিডান ও অতিবামের উত্থান: ইউরোপের জন্য কি সতর্কবার্তা?