1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

হুতিদের অগ্রগতিতে ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে টানাপোড়েন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ Time View

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার নতুন ঢেউয়ের মুখে পড়েছে সৌদি আরব। তবে মিত্র দেশটির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াতে এখনই তৎপর হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদ বারবার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন করে কোনও মার্কিন সামরিক অভিযান চালাতে রাজি হননি।

হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ওয়াশিংটন-রিয়াদ সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কতটা এগিয়ে যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও দোদুল্যমান। আপাতত সৌদিদের সঙ্গে সামরিক অভিযানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা আসলে কী ধরনের সহায়তা আশা করতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং তেলবাহী ট্যাংকারেও আক্রমণ করেছে। পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।

একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকাতেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তাদের অগ্রযাত্রায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পিছু হটেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি হুতিদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি সৌদি আরবকে ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি সেই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করছে।

কেন হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র?
ট্রাম্প প্রশাসনের হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান বৃহত্তর সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সম্পদ ব্যবহার করছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতও কমে গেছে।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ট্রাম্প ও তার পূর্বসূরি জো বাইডেন- উভয় প্রশাসনের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তবে এবার ওয়াশিংটনের কৌশল ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও সৌদি আরবকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। সৌদি আরবের কাছে মার্কিন তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।

এছাড়া গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। তবে এসব যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের হাতে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ফলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এই চুক্তির প্রভাব সীমিত।

বিমান হামলার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান
‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে বারবার বিমান হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সেই সম্পর্কের মধ্যেও বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।

গত মার্চে মিয়ামিতে সৌদি আরব আয়োজিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে ট্রাম্প মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘দারুণ বন্ধু’, ‘বিজয়ী’ ও ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

কিন্তু প্রায় ২০ মিনিট পরই তিনি যুবরাজকে নিয়ে একটি অশালীন মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভাবেননি যে তাকে আমার পেছনে এতটা তোষামোদ করতে হবে’- এমন মন্তব্য করেন তিনি।

হুতিদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কারেন গিবসন, যিনি একসময় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন, ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’কে বলেন, “এটি মোহাম্মদ বিন সালমান ভুলবেন না।”

গিবসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিক্রিয়া একটি বিষয় স্পষ্ট করছে- সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে বলে রিয়াদ মনে করলেও যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সামরিকভাবে যুদ্ধে জড়াবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সৌদি ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা
এর আগেও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হুতিদের ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা গেছে।

গত মে মাসে সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজকে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলে সহায়তা করার কোনও মার্কিন সামরিক অভিযানে তারা সৌদি ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এরপর ট্রাম্প একটি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা বন্ধ করে দেন।

রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ওই ধরনের অভিযান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুতিদের আরও হামলা উসকে দিতে পারে।

তবে পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের সংঘাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা সৌদি আরব আবারও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।

হুতিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয় এবং সৌদি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ওমানের মধ্যস্থতায় হুতিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। হুতিদের এক কর্মকর্তা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’কে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য থাকবে শুধু সৌদি জাহাজ; যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা চালানো হবে না।

ট্রাম্পও বলেছেন, হুতিরা মার্কিন স্বার্থে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
তবে সৌদি আরব যদি হুতিদের হামলার মুখে একা পড়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি অংশীদারত্ব নিয়ে রিয়াদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মোনা ইয়াকুবিয়ান।

তার মতে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের ব্যাপক হামলার মধ্যেও যদি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্বার্থ সরাসরি হুমকির মুখে না পড়ায় ওয়াশিংটন রিয়াদকে কার্যত একা লড়তে দেয়, তাহলে তা দুই দেশের অংশীদারত্বের ওপর খুব বেশি আস্থা তৈরি করবে না।
ফলে হুতিদের হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্যই নয়, দীর্ঘদিনের মার্কিন-সৌদি নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ