উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার কমিটিগুলো পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও ইউএনওদের একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে কমিটিগুলো থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলে অন্তর্ভুক্তদের বাদ দিয়ে নতুন সদস্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে থেকে পাঠানো এক অফিস স্মারকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মাঠ প্রশাসনে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্তদের বাদ দেওয়ার নির্দেশের কথা জানা গেছে।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে বা অনেকেই নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়েছে গেছেন।
ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত কমিটি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিসহ অনেক কমিটিতে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নেতৃত্বে দেন। আর এসব কমিটিতে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর মধ্যে দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের সঙ্গে সুশীল সমাজের অনেককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে—এর মধ্যে অন্তত একজন নারী—মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। বিদ্যমান এসব কমিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ কমিটি বেশ কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া, কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে এসব কমিটি পুনর্গঠন করে হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
চিঠিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযুক্ত তালিকায় থাকা ৯৮টি কমিটিসহ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য বিদ্যমান সব কমিটি হালনাগাদ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে দেশের উত্তরাঞ্চলের এক জেলা প্রশাসক আজ বুধবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নির্দেশনার আলোকে এ সংক্রান্ত কাজ চলছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাধারণত সরকার পরিবর্তন হলে পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন হয়, এটাই স্বাভাবিক। এবার গণঅভ্যুত্থানের মতো ঘটনা হওয়ায় বেশিরভাগ কমিটি থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই সরে গেছেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘কোথাও যেন অসতর্কতাবশতও বিতর্কিত লোকজন সদস্য হিসেবে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই উচ্চপর্যায় থেকে এ নির্দেশনা এসেছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’