1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও দুই মাস বাড়ল আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা হাম: সিলেটে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর, মোট মৃত্যু ১৭৫ বইপ্রেমীদের সমাগমে বায়তুল মোকাররমে মুখর মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য বাংলাদেশের চিকিৎসা পেশায় ঐক্য, নৈতিকতা ও জনআস্থার নতুন কাঠামো রোনালদোর কাছে এখন যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৭ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্মেলনে বোয়িংয়ের নতুন চুক্তির আশা ম্লান হতে পারে রংপুর কি অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টার হয়ে উঠছে?

যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও দুই মাস বাড়ল

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আগে এই বিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং শুধু ছোট ছোট সমঝোতায় না গিয়ে আরও বড় একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কাজ করতে চাইছে। দুই মাসের এই সময়সীমা সেই আলোচনার জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর দিনই এই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা এলো। বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে তাকে স্বাগত জানান। ১১ বছর পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

স্বাগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও সি চিনপিং এবং তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন, কয়েক মিনিট কথা বলেন এবং ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, কামানের গোলা ছোড়া হয় এবং একটি বি-১ সামরিক বোমারু বিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। সি চিনপিং প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোকে এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখা হলেও বড় ধরনের কোনো চুক্তি বা অগ্রগতির প্রত্যাশা কম। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে সি চিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।’ তবে ওই বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

দুই মাসের বাণিজ্যবিরতি বিশ্ববাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক তিন অঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরে কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ শুল্ক কমিয়ে একটি অস্থায়ী বাণিজ্যবিরতিতে যায়। তবে নতুন করে দুই মাস সময় পাওয়ার অর্থ এই নয় যে দুই দেশের বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ মিটে গেছে। শুল্ক ও বাণিজ্য সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিরল-পৃথিবী খনিজ, কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বিরোধ রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি চিনপিংয়ের সফরে বড় ধরনের সমঝোতার পরিবর্তে বাণিজ্যবিরতি বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় আলোচনার মতো সীমিত ফলাফল আসতে পারে। বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আরও বড় একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে কাজ করতে চাইছে। একই সঙ্গে দুই দেশ এআই নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের শেনঝেনে এআই নিরাপত্তা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের আবার বৈঠকের কথা রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান, ইরান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, সি চিনপিং সম্ভবত তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প উন্নত প্রযুক্তি ও কম্পিউটার চিপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানে থাকতে পারেন।

ইরান সংঘাত নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তবে বেইজিং ওই সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পকে কী ধরনের সহায়তা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খাতে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। চীনে আটক কিছু মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প আলোচনায় তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেখানে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের মতো ব্যবসায়ী নেতাদের থাকার কথা। দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হলো সম্পর্কের স্থিতিশীলতার একটি বার্তা দেওয়া। তবে বাণিজ্যবিরতির নতুন দুই মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশ বড় কোনো অর্থনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

চলতি বছর ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের মধ্যে আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক সম্মেলন কিংবা ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি-২০ বৈঠকের সময় তাদের আবার দেখা হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ