বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভাবলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের নানা দিক তুলে ধরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়ে ভেবেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে নিজেকে ‘চিন্তাশীল মানুষ’ দাবি করে পর্তুগিজ তারকা বললেন, জাতীয় দলে এখনও অবদান রাখতে পারবেন বলেই খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অবসরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে পরিষ্কার কিছু না জানিয়ে তিনি শুধু বলে রাখলেন, আপাতত তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধ্যান্য পাচ্ছে নিজে ভালো অনুভব করা।
রোনালদোর এই বয়সে খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে পরবর্তী জীবনে থিতু হয়ে যান বেশির ভাগ ফুটবলার। কিন্তু ৪১ পেরিয়েও তিনি হাল ছাড়ছেন না। পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নামছেন তিনি বৃহস্পতিবার। নতুন কোচ জর্জে জেজুস এর মধ্যেই নিশ্চিত করেছেন, ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে সেরা একাদশেই থাকছেন দলের সবচেয়ে তড় তারকা।
বিশ্বকাপের পর অনুমিতভাবেই অনেক ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সি তুলে রেখেছেন। রোনালদোর মাথায়ও সেই ভাবনা খেলে গেছে বলে স্বীকার করলেন তিনি। কিন্তু অনেক ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খেলা চালিয়ে যাওয়ার।
“হ্যাঁ, ভেবেছিলাম (অবসরের কথা)। অবশ্যই, আমি সবসময় আমার সিদ্ধান্ত, আমার ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি একজন চিন্তাশীল মানুষ। ভাবতেই হয়। এ কারণেই আপনারা আমাকে এখন এখানে দেখছেন। এর মানে হলো, আমি চালিয়ে যাব।
আমাদের সভাপতি এবং কোচের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এখনও বিশ্বাস করি যে, জাতীয় দলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি সাহায্য করতে সক্ষম এবং তখনই খেলা ছাড়ব, যখন আমার মনে হবে যে, আমি এখানে আর কিছুই করছি না।”
বিশ্বকাপের পর নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে দলের নতুন শুরুর পথচলায় সহায়তা করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস। তার মতে, গোল করা ছাড়াও অন্যভাবে তিনি রাখতে পারেন ভূমিকা।
“এটি একটি নতুন ও তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে গোল করতে পারা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।
তবে আমি মনে করি, আমি শুধু গোলের মাধ্যমেই নয়, ফুটবলের বাইরেও জাতীয় দলকে সহায়তা করতে পারি।”
রোনালদোর দাবি, দল তাকে চায় বলেই তিনি দলকে এখনও আলিঙ্গন করে রেখেছেন। দল বা ফেডারেশন না চাইলে তিনি তখনই অবসরে চলে যাবেন।
“যদি পর্তুগাল আর আমার ওপর নির্ভর করতে না চায়, তাহলে আজই চলে যেতে পারি। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। এটা এমনকি (ফেডারেশনের) সভাপতির ক্ষেত্রেও সত্যি। যখন তারা জাতীয় দলে আমার ওপর আর নির্ভর করতে চাইবেন না, আমিই প্রথম তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।
যদি তারা আমার ওপর নির্ভর করে, আমিও তাদের ওপর নির্ভর করি। পর্তুগালের জনগণও আমার ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছি।”
রোনালদোর ধারণা, পর্তুগালের ফুটবল অনুসারীরাও তাকে দলে দেখতে চান। তবে সমালোচনাও যে হবে, সেটাও তিনি জানেন। তার দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যম বরাবরই তার পিছু লেগেই আছে।
“বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই একটা কথা বলি আমি। এত বছর ধরে ফুটবল খেলছি, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব জায়গাতেই আমি সমাদৃত হয়েছি। আমার মনে হয় পর্তুগিজ ভক্তরাও আমাকে পছন্দ করে। এটাও বুঝি যে, কিছু টিভি চ্যানেল আমার সমালোচনা করতে চায় — তারা আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, লাভ যদিও হয়নি।
তারা এখন মরিয়া হয়ে চাইছে, আমি যেন আর জাতীয় দলে না আসি। যাইহোক, এসবে আমি অভ্যস্ত। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটা করে আসছি। তাদের সঙ্গে স্মৃতিই আমি লালন করব, যারা আমাকে ভালোবাসে।”
রোনালদোকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে সম্ভবত শিশু-কিশোররা। তার পারফরম্যান্স যেমনই হোক, গোল আসুক বা না আসুক, বিশ্বজুড়ে বাচ্চারা তাকে ভালোবাসে নিখাদভাবে।
সেই উষ্ণতাকে সঙ্গী করে রোনালদো বললেন, কারণটাও তিনি খুব ভালো করে জানেন।
“আমি জানি কেন ছোট বাচ্চারা ক্রিশ্চিয়ানোকে ভালোবাসে, কারণ তারা আমাকে আদর্শ হিসেবে দেখে, এবং আমি তা করে যাব। এমনকি অবসর নেওয়ার পরেও… ১০ বছর পরও।”
সেই অবসর কবে আসবে, জানেন না তিনি নিজেও। শুধু জানেন, ভালো অনুভব করলে তিনি চালিয়ে যাবেন।
“এটাই কি আমার শেষ অধ্যায় হবে? হয়তো, আমি জানি না… হতেও পারে এটা আমার শেষ মৌসুম, নাও হতে পারে। যদি শরীর সায় দেয় এবং মনও সায় দেয়…. এখনও ভালো অবস্থায় আছি আমি, কাজেই জানি না… জানি না সামনে কী হবে…।
নিজেকে নিয়ে আমি খুশি। আগামীকাল খেলব কি না, বা পরের ম্যাচে বিশ্রাম নেব কি না, তাতে কিছু যায় আসে না। এখন আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি যেন ভালো অনুভব করি।”
সাইবার নিরাপত্তার নামে ক্ষমতা কায়েমের আইনি ফাঁদ
শাহরিয়ার কবির: রাজনৈতিক পরিচয়ের ফৌজদারি পুনর্লিখন
আইফোন, ভোগবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়: অপ্রতিমের হত্যাকারী কে?
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার ব্যর্থতা