ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ নির্ধারণ নিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৯ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি চুক্তি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে শনিবার (৮ আগস্ট) দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ওই শর্তগুলো পূরণ করার পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হলে কোন কোন নৌপথ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
এর আগে শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর ফলে শিগগিরই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। ইরান ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
আরাকচি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। ওয়াশিংটন জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত তেহরানও আলোচনায় বসবে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা শান্ত ভাবে এগোচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের সঙ্গে শুধু আংশিকভাবে আলোচনা করছি। আমরা শুধু ইরানকে পর্যবেক্ষণ করছি, যেখানে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি চলছে এবং তাদের অর্থও নেই।’
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে প্রণালীটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স