ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভগবত এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। ছবি: এক্স/পিটিআই
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর অস্থিতিশীলতার উদাহরণ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তনের’ যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ভগবত এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই আন্দোলনে কিছু বিক্ষোভকারী সরকার পরিবর্তনেরও দাবি জানাচ্ছে।
মঙ্গলবার নাগপুরে বিজয়া দশমী উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আন্দোলন করলেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় না। সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই।”
প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীন বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের যে কোনও চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ভারতেও একই ধরনের চেষ্টা চলছে। ভারত অন্যদের মতো একই পথে হাঁটবে না। ভারতকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না।
ভগবত বলেন, "ভারতে শাসন পরিবর্তন হবে না।” দেশ তার সংকল্প এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে এগিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকে নির্ণায়ক নীতির মাধ্যমে ভারত যেভাবে এগিয়েছে, তা ব্যাহত করা যে সম্ভব নয়, অশুভ শক্তিগুলো তা জানে। তাই তারা ভারত এবং সঙ্ঘকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।”
ভাগবত হুঁশিয়ার করে আরও বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্ররোচনা দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা হলে তা উত্তেজনা, নৈরাজ্য এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।”
তার কথায়, “ভারতই তাদের প্রধান লক্ষ্য, কারণ ভারত উন্নতি করছে। ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়, এমন শক্তি সম্পর্কে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এটি স্পষ্ট যে, বিশ্বের অনেক শক্তিই চায় ভারত পরাজিত হোক।”
তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম দিক থেকে একটা ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। তারা সবকিছু ধ্বংস করতে চায়।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাক্ষী হওয়া ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ দিয়েছেন ভাগবত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়।
এর এক বছর আগে, ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে বড় ধরনের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জনপরিষেবার অবনতি নিয়ে অসন্তোষের জেরে বড় রূপ নিয়েছে। সেই ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভগবত বলেন, ভারতে এমন এক ধরনের মানুষ আছে যারা এই শক্তিগুলোর মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায়। ভারতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাদের বুদ্ধির অভাব এবং ক্ষমতার লোভ আছে।”
সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, সমস্যার সমাধান সমাজের ভিতর থেকেই খুঁজে বের করতে হবে, আন্দোলনের মাধ্যমে নয়।
আমেরিকা কি সত্যি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের পথে যাচ্ছে?
প্রবাসী বন্ড ও সমন্বিত উন্নয়ন: সিলেটের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ
অনাগত বেতনের আগাম দহন: ২০২৬ নোবেলজয়ীদের তত্ত্বে পে স্কেল ও প্রত্যাশার নোঙর
যুদ্ধ হরমুজে, আগুন ফ্রান্সে: ভূরাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট