1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন রোধে বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য যে নির্দেশনা বিএফআইইউর

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন রোধে দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

গতকাল সোমবার জারি করা এ নির্দেশনায় সব ধরনের সব ধরনের বিমা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত কঠোরতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাহকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ এবং লেনদেনে কঠোর নজরদারির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এবং এই দুই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালাগুলো মেনে চলতে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেসব পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে তার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিদ্যমান আইন এবং বিএফআইইউর নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা করতে হবে।

এই নীতিমালা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী বা ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন করবে। নীতিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের জানাতে হবে, বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ঝুঁকি ও পরিচালনাগত বাস্তবতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে তা পর্যালোচনা করতে হবে।

এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিএফআইইউর নির্দেশনা যেন অবশ্যই মেনে চলা হয়—বিমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমা কোম্পানিগুলোর প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন করতে হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন 'চিফ অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার' হিসেবে মনোনীত একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দুই ধাপ নিচের জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এই ইউনিটকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

কোম্পানির ব্যবসার আকার, পরিচালনার পরিধি ও গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিটে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইআইইউ।

কমপ্লায়েন্স ইউনিটকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউর কাছে এর একটি অনুলিপি পাঠাতে হবে।

বিমা কোম্পানিগুলোকে তাদের সব শাখা, এজেন্সি, ইউনিট, দাবি নিষ্পত্তি এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টদের জন্যও এমন নীতিমালা করতে হবে। এতে গ্রাহক শনাক্তকরণ, লেনদেন নজরদারি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই সম্পূর্ণ ও সঠিকভাবে গ্রাহকদের পরিচয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং বিএফআইইউর আধুনিক ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (গ্রাহকের তথ্য ফরম) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এতে বেনামী বা ছদ্মনামের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে হবে।

যেকোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে গ্রাহকের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত নজরদারি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ছাড়া একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলো অবশ্যই পরের মাসের প্রথম ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউকে জানাবে।

উদ্দেশ্যহীন অস্বাভাবিক বা জটিল লেনদেনের বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

কোনো পলিসি বন্ধ বা দাবি নিষ্পত্তির পর সব কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, অডিট রিপোর্ট এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি ন্যূনতম পাঁচ বছরের জন্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ