1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিলেটে প্রথমবারের মত শতহস্তের দুর্গার প্রতিমা খুলনা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনোনীত হলেন … সিলেটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী খুন: বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি, গ্রেপ্তার ৩ আসামি গম্ভীর-আল্লু অর্জুনের পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ বলিউড অভিনেত্রী ৩০ বছর বয়সে ক্রিকেট ছাড়লেন স্কটিশ পেসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, থাকছে নানা আয়োজন গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবে নিহত ১২ বিশ্ব কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়েছে জামায়াত ছাত্রলীগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি ছাত্রদল: সিবগাতুল্লাহ

বিশ্ব কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে (টিভেট) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সংযোগ তৈরি, শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। উচ্চপর্যায়ের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এ সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এমন একটি অপরিহার্য সেতুবন্ধন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির বিকাশ শ্রমবাজারের চাহিদায় দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতের অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হলে শুধু একাডেমিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে।

বাংলাদেশের টিভেট খাতের সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ শুধু নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদা, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

এ ব্যবস্থার আওতায় কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, শিক্ষকদের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি সম্পর্কে নিয়মিত হালনাগাদ জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দক্ষতাভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ সুগম করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি শিক্ষাকে সময়োপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ওই সফরে দু’দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টিও এ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্পভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করে তুলতে হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা ও জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণদের মধ্যে অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, যাতে সম্মিলিত উদ্যোগে ভবিষ্যতের কর্মজগতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করা যায়।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং দু’দেশের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ