মহাষষ্ঠী, দেবীবোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব আরম্ভ হতে যাচ্ছে আজ। পূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে ছয় দিনব্যাপী নানা আয়োজন থাকছে। পূজা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জগন্নাথ হল উপাসনালয়ে তথা পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে সমগ্র হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল এবং কারিগরী সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা।
এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে নিয়মিতভাবে জগন্নাথ হলের পূজা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিষয়ক অংশীজনদের নিয়ে ইতোমধ্যে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিরাপত্তার ইস্যুটি সমন্বয় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'দেবীর ঘোটকে আগমন ও নৌকায় গমন'- এই শাস্ত্রীয় বিশ্বাস ধারণ করে এবারের দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সব রীতি, আচার, প্রথা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল হয়েই আমরা এই সর্বজনীন পূজা আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'পাশাপাশি হল প্রশাসন হলের অভ্যন্তর ও তৎসংলগ্ন পারিপার্শিক এলাকাতে পূজায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক প্রতিমা-দর্শন ও শিশু-কিশোরদের বিনোদনমূলক স্থাপনায় পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নিমিত্তে সবার জন্য অবশ্য অনুসরণীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসম্বলিত লিফলেট বোর্ড বড় আকারে হলের প্রত্যেক প্রবেশদ্বারে ও উপাসনালয় সংলগ্ন স্থানে সহজে দৃশ্যমান করে টানানো হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, 'বরাবরের মতো এবারেও সমগ্র জগন্নাথ হল সিসি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে; প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে; ছোট শিশুদের দুগ্ধ সেবনের জন্য বিশেষ নিরাপদ একটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে; কোনো ধরনের পটকা বা আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।'
প্রভোস্ট বলেন, 'পলাশীস্থ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা হলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার সফল আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি।'
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা গত একমাস ধরে এটি নিয়ে কাজ করছি। হলে প্রায় ২৫০ টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করছেন।'
সংবাদ সম্মেলনে হলের পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. প্রমথ মিস্ত্রী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. অসীম দাস ও সদস্য সচিব সাধন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.