1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

কৃষকের মাঠ থেকে মানুষের পাতে: বিএডিসি’র ৬৫ বছরের অভিযাত্রা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

একটি ধানের শীষের গল্প আসলে শুধু একটি শস্যের গল্প নয়। এর সাথে জড়িয়ে থাকে একটি ভালো বীজের গল্প, সঠিক সময়ে সেচ পাওয়ার গল্প, প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার গল্প, কৃষকের নিরলস শ্রম এবং সর্বোপরি একটি জাতির খাদ্য নিরাপত্তার গল্প।

ধানের শীষটি যখন কৃষকের মাঠে দুলতে থাকে তখন তার পেছনে কাজ করে যায় বহু প্রতিষ্ঠানের নীরব প্রচেষ্টা। সেই নেপথ্যের অন্যতম কাণ্ডারী হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

কাকতালীয়ভাবে নয়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর জন্ম হয়েছিল এক ঐতিহাসিক দিনে, ১৬ অক্টোবর ১৯৬১। জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব খাদ্য দিবসও ১৬ অক্টোবর। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও রক্ষার্থে বিএডিসি'র কার্যক্রম যেন একইসূত্রে গাঁথা।

উদ্দেশ্য একই, শুধু পরিধি ভিন্ন। ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস। ফলে দিনটি বিএডিসি'র জন্য শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নয়; কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার বৃহত্তর অঙ্গীকার স্মরণ করারও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

১৯৬১ সালে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিএডিসি যাত্রা শুরু করে, ৬৫ বছরে এসে তা এখন বহুমাত্রিকতায় বিস্তৃত। বিএডিসি দেশের কৃষি উন্নয়নে একটি বহুমুখী সেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংস্থাটি মানসম্মত বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ, সেচ সুবিধা প্রদান ও সম্প্রসারণ, মানসম্মত সার আমদানি ও বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠার সময় দেশের কৃষি ছিল নানা সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। উন্নতমানের বীজের স্বল্পতা, সেচের সীমিত সুযোগ, কৃষি উপকরণের অপ্রতুলতা কৃষি উৎপাদনের পথে বড় বাধা ছিল।

সময়ের সাথে সাথে দেশের কৃষি চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি পরিবর্তিত হয়েছে কৃষির ধরণ, আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রমকে সামঞ্জস্য করে কৃষকের পাশে থেকেছে বিএডিসি।

১৯৬২-৬৩ সালে বিএডিসি প্রায় ১৩.৮ মে. টন বীজ সরবরাহের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। ক্রমান্বয়ে বিএডিসি'র বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকে। উল্লেখ্য ২০২৫-২৬ সালে বিএডিসি কর্তৃক ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পাট, ডাল, মসলা, সবজি ও তৈলবীজসহ বিভিন্ন ফসলের ১.৪৪ লক্ষ মে.টন বীজ উৎপাদন এবং ১.৪৭ লক্ষ মে.টন বীজ কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।

মানসম্মত বীজ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম উপকরণ। উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও কৃষক পর্যায়ে বিতরণের লক্ষ্যে বিএডিসি'র রয়েছে নিজস্ব ৩৪টি বীজ উৎপাদন খামার, ১০টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, ১৪টি এগ্রোসার্ভিস সেন্টার, ৯২টি চুক্তিবদ্ধ চাষি জোন, ৬৫ টি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ৩০টি আলুবীজ হিমাগার, ৮টি টিস্যু কালচার ল্যাব এবং ১০০টি বীজ বিক্রয় কেন্দ্র।

বিএডিসি'র বিভিন্ন চুক্তিবদ্ধ চাষি জোনে ১,০৫,৭৭৫ জন চুক্তিবদ্ধ চাষি রয়েছে, যারা বিএডিসি'র বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করে বিএডিসি'র নিকট তা সরবরাহ করে যাচ্ছে। গবেষণা সেলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪০ টি উচ্চফলনশীল এবং সম্ভাবনাময় ফসলের জাত বিএডিসি'র নামে নিবন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাব মোকাবেলায় প্রতিকূলতাসহিষ্ণু তথা লবণাক্ত, খরা ও জলমগ্নসহিষ্ণু জাতের বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

১৯৬১-৬২ সালে ১৫৫৫টি শক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে বিএডিসি কর্তৃক দেশে আধুনিক সেচ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে। বাংলাদেশের কৃষিতে সেচের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শুস্ক মৌসুমে সেচ নির্ভর চাষাবাদ দেশের খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

বর্তমানে পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি, ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সেচ ব্যয় হ্রাসের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এছাড়া জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, খাল পুনঃখনন, ভূউপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, শক্তিচালিত পাম্প স্থাপন, গভীর নলকূপ পুনর্বাসন, পাহাড়ি এলাকায় ঝিরিবাঁধ নির্মাণ এবং সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প ও ডাগওয়েল স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২০০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা ও সেচ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তাছাড়া আলোচ্য অর্থবছরে ৮২০ কি: মি: খাল খনন/পুন:খনন, ৬৬২টি সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, ৪৯ কি: মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ১৬১টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন, ৫০টি পলিশেড নির্মাণ, ৪৭৮টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং এবং ১৩০ হেক্টর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের সাথে বীজ ও সেচের পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনাও নিবিড়ভাবে জড়িত। কৃষি উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ সার। ১৯৬০-৬১ সাল থেকে বিএডিসি কৃষকদের নিকট সার বিক্রি, ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ শুরু করে। ১৯৬২-৬৩ সালে প্রায় ৫০,০০০ মে.টন সার কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়।

বিএডিসি'র মাধ্যমে তখন থেকে সারাদেশে থানাভিত্তিক সার বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সার বিপণন কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে বিএডিসি কতৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি) নন-ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে ২৬.২৭ লক্ষ মে.টন এবং সার বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪.০১ লক্ষ মে.টন। উল্লেখ্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারাদেশে বিএডিসি জাতীয় চাহিদার বিপরীতে ৭৫.৩৭% নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ করেছে।

বিএডিসি মূলত রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় নন ইউরিয়া সার আমদানি করে থাকে। বর্তমানে বিএডিসি রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় তিউনিসিয়া ও মরক্কো হতে টিএসপি, মরক্কো, সৌদি আরব ও চীন হতে ডিএপি এবং রাশিয়া ও কানাডা হতে এমওপি সার আমদানি করা হচ্ছে। নন ইউরিয়া সারের নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তুলতে সরকারের নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিএডিসি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিএডিসি'র দেশব্যাপী ২১টি অঞ্চলের ৬৪ জেলার ৫০টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৪৮টি সার গুদাম হতে প্রায় ১০,৮১৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিএডিসি'র সারগুদামের আদর্শ ধারণক্ষমতা ২,৯৪,৮৩৩ মে.টন। গুদামের ধারণক্ষমতা কার্যকরভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও নানা ধরনের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বিএডিসি'র মাধ্যমে সম্পাদিত হওয়ায় কৃষকরা যথাসময়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে মানসম্পন্ন সার প্রাপ্তিতে সক্ষম হচ্ছেন।

ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেচপদ্ধতি হলো সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিদ্যমান খাল-নালা পুন:খননপূর্বক পানির প্রবাহ চলমান রাখা। এক্ষেত্রে বিএডিসি'র রয়েছে এক উজ্জ্বল ও গৌরবান্বিত ইতিহাস। বিষয়টি গুরুত্বের সহিত প্রাধান্য দিয়ে সরকার সারাদেশে পাঁচ বছরে ২০,০০০ কি.মি. খাল নালা পুন:খননের মহাপরিকল্পনায় গ্রহণ করেছেন।

এর মধ্যে ৯,০০০ কি.মি. খাল নালা পুন:খননের দায়িত্ব বিএডিসি'র অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এর অংশ হিসেবে বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮২০ কি.মি. খাল নালা পুন:খননের কাজটি সম্পাদিত হয়েছে। খাল খননের ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা দুরীকরণ, পতিত জমি আবাদী জমিতে রূপান্তর, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সেচ ব্যবস্থায় জ্বালানী ব্যয় কমানো, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কৃষকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিএডিসি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জালানী ব্যাবহারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে 'নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যমান সেচযন্ত্র সমূহকে সৌরশক্তি চালিত সেচযন্ত্রে রূপান্তকরণ প্রকল্প' প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারের এ মহাপরিকল্পনাটি দেশের মোট ৮টি বিভাগের ৫৬টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলা জুড়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় বিএডিসি কর্তৃক বিদ্যমান ৫০,৯০০টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রকে সোলার সেচযন্ত্রে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। তন্মধ্যে ২৫,০০০টি সেচযন্ত্র নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। ফলে বার্ষিক প্রায় ১৭৬.৪০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার অংশ হিসাবে বিএডিসি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে পলিশেড নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত ৮২টি পলিশেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং জুন ২০২৮-এর মধ্যে আরও ৬০টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রচণ্ড ঠান্ডা, অধিক তাপ কিংবা অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়াতেও পলিশেডে চারা উৎপাদন অব্যাহত থাকায় কৃষকের চারা উৎপাদন ঝুঁকি কমছে। ফলে বছরব্যাপী উচ্চমূল্যের সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পলিশেডে পানিসাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয় এবং কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। ফলে এটি লাভজনক, টেকসই ও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও কৃষির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ব্যবহৃত পাট বীজের চাহিদা দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে বিএডিসি'র মাধ্যমে চার বছর মেয়াদী একটি সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমানে ২০২৬-২৭ উৎপাদন মৌসুমে ২২১০.০০ মে. টন বীজ উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০২৭-২৮ উৎপাদন বর্ষে যথাক্রমে ৩৩০০.০০ এবং ২০২৮-২৯ উৎপাদনবর্ষে ৪৫১০.০০ মে. টন বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনাসহ ২০২৯-৩০ উৎপাদন বর্ষ হতে স্থায়ীভাবে ৫০০০.০০ মে. টন পাট বীজ উৎপাদনের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান পাট বীজ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ১০ টি জেলায় পাট বীজ চুক্তিবদ্ধ চাষী জোন স্থাপন করা হবে।

একইসঙ্গে বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে 'মানসম্পন্ন পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন' শীর্ষক একটি প্রকল্প জানুয়ারি ২০২৭ হতে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত মেয়াদে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রপ্তানি সম্ভাবনায় ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লাট

কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বিএডিসি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাষ্পতাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি জীবাণুমুক্তকরণ এবং সংরক্ষণকাল (Shelf Life) বৃদ্ধির মাধ্যমে সেগুলোকে রপ্তানি উপযোগী করার জন্য বিএডিসি কর্তৃক ঢাকার গাবতলীতে Vapour Heat Treatment এবং Hot Water Treatment Plant স্থাপন করা হয়েছে।

৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখ উক্ত প্লান্টে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আমের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট শুরু হয়েছে। উক্ত প্লান্টে দৈনিক ১২ মে.টন আম ও অন্যান্য সতেজ কৃষিপণ্য ট্রিটমেন্ট করা সম্ভব হবে। এযাবৎ দেশীয় বাজারের জন্য ৮,৬২০ কেজি এবং বিদেশে রপ্তানী করার জন্য ১২,০৮০ কেজি আম ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ