1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

যেসব ধনী দেশের দরিদ্রতম মানুষের আয়ও ভারতের শীর্ষ ধনীদের চেয়ে বেশি: বিশ্বব্যাংক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ Time View

আম্বানি, আদানি, জিন্দাল, মিত্তাল, বিড়লাদের নাম কে না জানে! ভারতের এই ধনকুবেরদের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। তবে বিশ্ব অর্থনীতি বলছে ভিন্ন কথা, দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘পভার্টি অ্যান্ড ইনইকুয়ালিটি প্ল্যাটফর্ম’ বলছে, বিশ্বের কয়েকটি ধনী দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের আয় ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের চেয়েও বেশি।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, ভারতে সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের দৈনিক মাথাপিছু আয় বা ভোগব্যয়ের সীমা প্রায় ৩ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একই সীমা ২৫ ডলার, কানাডায় ৩১ ডলার। জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮ ডলার করে।

আয়ের বণ্টনের অন্য প্রান্তে থাকা ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের দৈনিক মাথাপিছু আয় বা ভোগব্যয়ের সীমা প্রায় ১০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে এ পরিমাণ ১৭৩ ডলার, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ১২৯ ডলার করে এবং জার্মানিতে ১২৮ ডলার। উল্লেখ্য, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটিতে মাসে ৮০ হাজার রুপি আয় করেন এমন ব্যক্তি উপার্জনকারীদের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছেন।

এই তুলনা বলছে, ভারতের সবচেয়ে ধনী পরিবারের পর্যায়ে থাকা মানুষদের জীবনযাত্রার মানও বেশ কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির দেশের আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট অহনা দত্তগুপ্ত বলেন, এই তুলনা ভারতের আরও গভীর একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। সমস্যাটি শুধু দারিদ্র্য নয়; বরং পুরো অর্থনীতিতেই মানুষের আয় কম।

ভারতে দৈনিক ১০ ডলার ব্যয় করতে পারা একজন ব্যক্তি দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে স্থান পেতে পারেন। কিন্তু কানাডা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারা ব্যক্তি সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশের মধ্যে পড়তে পারেন।

দত্তগুপ্তের যুক্তি হলো, দরিদ্র ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা জরুরি। তবে শুধু এই পদক্ষেপে দেশটিকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে না। দরিদ্র ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান বর্তমানের তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছালেও তা ধনী দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মানের চেয়ে অনেক নিচে থেকে যেতে পারে।

তাই ভারতের কেবল দরিদ্র ও ধনীদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। বরং পুরো জনগোষ্ঠীর আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়লে একই পরিমাণ জমি, শ্রম ও মূলধন ব্যবহার করে মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এর ফলে মজুরি বাড়তে পারে, উন্নত বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

দত্তগুপ্ত বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবন এবং নতুন ধারণা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোন ধারণাটি সফল হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। তাই উদ্যোক্তাদের এমন পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তাঁরা নতুন ধারণা পরীক্ষা করতে পারবেন, প্রকৃত ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং সফল ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

এ জন্য ব্যবসা শুরু করা ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করা, করের হার যুক্তিসংগত ও পূর্বানুমানযোগ্য রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বিধিবিধান মেনে চলার বোঝা কমানো প্রয়োজন।

ভারত ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিয়মকানুন মেনে চলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কিছু ছোটখাটো অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ ও আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও সংস্কার প্রয়োজন।

এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান বিধিবিধান নিয়মিত পর্যালোচনা, চুক্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা এবং এমন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, যেখানে নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

দত্তগুপ্তের বক্তব্যের মূল কথা হলো, দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিদ্যমান আয়বণ্টনের কাঠামোর মধ্যে মানুষকে শুধু উচ্চতর আয়ের স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করাই যথেষ্ট নয়। ভারতের প্রয়োজন হলো, আয়বণ্টনের সব স্তরেই মানুষের আয় বাড়ানো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ