যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর তেল অবরোধ লঙ্ঘন করে কিউবায় অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহণের অভিযোগে ‘এম ভি গ্রেস’ নামের একটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মার্কিন কোস্ট গার্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ক্যারেবীয় সাগরে কিউবাগামী ‘এম ভি গ্রেস’ জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি চালায় তাদের একটি বিশেষ দল। ওই সময় জাহাজটিতে গোপন রাখা প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হচ্ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জাহাজটি সাধারণত ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা গোপনে পরিচালিত নেটওয়ার্কের ব্যবহৃত বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানির মূল উৎস, প্রকৃত মালিকানা ও গন্তব্য গোপন রাখা।
পরবর্তীতে জাহাজটিকে মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রগ্রেসো বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেক্সিকান নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ তল্লাশিতে জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতরে গোপনে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিবৃতিতে কোস্ট গার্ড আরও উল্লেখ করে যে, চলতি গ্রীষ্মের শুরুর দিকে তারা ‘জাইরা প্রোভাইডার’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেটি আটক করেছিল, যেটিও একইভাবে কিউবায় অবৈধভাবে জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মারাত্মক রূপ নেয়। ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কমিউনিস্ট শাসিত কিউবাকে মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কিউবার ওপর পূর্ণাঙ্গ তেল অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। প্রায় ৯৪ লাখ জনসংখ্যার দেশ কিউবা বর্তমানে এই কঠোর অবরোধের মুখে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছে।